আমি ওর সব মেসেজ, পিকচার ঘাটতে লাগ্লাম। আমি যা দেখলাম ভাষায় প্রকাশ করার মত না। অগনিত মেয়ের সাথে তার ফিজিকাল রিলেশন, সেক্স ভিডিও। আমি ভয়ে কাপতে লাগলাম এ কার সাথে শুয়ে আছি আমি। গত ১ সপ্তাহে ৩/৪ টা মেয়ের সাথে ওর ফিজিক্যাল হয়েছে। আমি হাউমাউ করে কাদতে শুরু করলাম। আমার কান্নাকাটির শব্দে সরন ঘুম থেকে জেগে। গেল। উঠেই দেখল ওর ফোন আমার হাতে।ওর আর বুঝতে বাকি রইলোনা।
অনেক চড় থাপ্পড় লাখি পড়লো আমার শরীরে। অকথ্য ভাষায় গালাগালি। পরদিন আমি অনেক জর, গায়ে ব্যথা নিয়ে একাই ঢাকায় চলে আসি। সরনের সাথে আর যোগাযোগ করিনা। কয়দিন পর আমি বুঝতে পারলাম আমি প্রেগন্যান্ট। মাথা চক্কর দিতে লাগলো হায় আল্লাহ এখন কি হবে। কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছে আমার। তারপর সরনের সাথে যা ঘটলো, আবার পেটে বাচ্চা আমি কোথায় গিয়ে দাড়াবো? কে আমায় সাহায্য করবে? অবশেষে সরনকে আবার ফোন দিলাম। সব খুলে বললাম। সরন আমাকে একজন ডক্টর এর কাছে নিয়ে গেল।
উনি পরিক্ষা নিরিক্ষা করে বললেন আমি সত্যি প্রেগন্যান্ট। সরনকে বললাম আমাদের বিয়ের কথা তার বাসায় জানাতে। সরন বলল কিসের বিয়ে তোমার সাথে আমার কোন বিয়ে হয়নি সব কিছু ছিলো সাজানো। আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পরলো। তাহলে এতদিন যা ছিল সব মিথ্যে? আমার পেটের সন্তান তার কি হবে? আমি কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেক চিন্তা করে সরনের মায়ের নাম্বার জোগাড় করে ফোন দিলাম।
সেখানে ফোন দিয়ে যা শুনলাম তা শুনে আমি আর আমার অস্তিত্ব খুজে পাচ্ছিলাম না। সরনের অনেকদিন আগেই তার মামাতো বোনের সাথে বিয়ে হয়েছে, তাদের সন্তান ও আছে। আমি যেন পুরো পাগল হয়ে গেলাম। মাকে অনেকদিন পর ফোন দিলাম আমার মা খুব সহজ সরল মানুস। মা আমাকে বলল সৎ ভাই মাকে খুব জালায়, মারধর করে বাবা মারা যাওয়ার পর
অত্যাচার আরও বেড়ে গেছে। মা অনেক কাদলো। বলল তোর ত কয়দিন পর ফাইনাল পরিক্ষা। তুই জলদি পাশ দিয়া একটা চাকরি নে। নিয়ে আমারে এখান থেকে নিয়ে যা নইলে দেখবি তর মা মইরা গেছে। ফোন টা রাখলাম। কত টা কান্না করেছি আর পেটের বাচ্চাটাকে হাত বুলিয়ে আদর করেছি হিসাব নেই। এরপর এ্যবরশন করলাম। থানা পুলিশ করে কাজ হলোনা কিছুই। পুলিশ শুধু টাকা বুঝে। আমাকে কে দেবে এত টাকা। কোনমত পরিক্ষা দিলাম।
এরপর মানষিক সমস্যা দেখা দিল। বাচ্চাটার জন্য হাউমাউ করে কাদতাম। এভাবে ৬ মাস কেটে গেলো। সরন এখন অনেক বড় ব্যবসায়ী তার শশুড় এর টাকায়। ফ্লাট, গাড়ি সব আছে তার। আমি শুধু জ্যন্ত লাশের মত জীবন কাটাতে থাকি। এইসময় অনেক পুরনো এক বন্ধুর সাথে রাস্তায় দেখা। আমাকে দেখে বেশ বুঝতে পারছিলো আমি ভালো নেই। স্কুল জিবনে এই ছেলেটি আমাকে অনেক পছন্দ করতো কিন্তু কখনও মুখে বলেনি। আমি বুঝতাম।
আমি ওকে আমার জিবনে ঘটে যাওয়া সবকিছু জানালাম। সেদিন ওর চোখে আমার জন্য মায়া ছিলো নাকি করুনা নাকি ঘৃনা আমি বুঝিনি। কিন্তু ও আমাকে সবসময় যতটা পারত সময় দিত। আমাকে বুঝাতো। আমি আস্তে আস্তে কিছুটা সাভাবিক হতে শুরু করি। অনুভব করলাম ও আমাকে ভালোবাসে কিন্ত বুঝেও কিছু বলতাম না। কিছুদিন পর আমার জব হলো। মাকে আমার কাছে নিয়ে আসলাম। সবকিছু ভালোই চলছিল
এর মাঝে আমার বন্ধুটি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি না করি। যাই হোক ১ বছর পর আমাদের বিয়ে হয়। ও আমাকে সুখেই রেখেছে। বিয়ের প্রায় ২ বছর হতে চলেছে ও কখনো ১ দিনের জন্য আমাকে আমার অতীত মনে করাইনি। আমি এখন ৭ মাসের প্রেগন্যান্ট। খুব যত্ন করে ও আমার। সরন এখন অনেক খোজে আমায়। ওর ব্যবসায় লস খেতে খেতে পথের ফকির হয়ে গেছে। ওর বউ আর ওর সাথে থাকেনা। আমাকে ফেসবুকে
অনেক মেসেজ করে, মাফ চায় আমি কোন উত্তর করিনা। আল্লাহ বিচার করেছেন। মেয়েদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ ভালোবাসা দোষের না তবে বুঝে শুনে ভালোবাসুন যাতে কাউকে আমার মত যন্ত্রনা, দুঃখ পেতে না হয়, একটা জীবন বলি দিতে না হয়।
