-
সার্থক আপনাদের বন্ধুত্ব! সবটা জেনেবুঝেও আপনিও আপনার বন্ধুকে সাপোর্ট করছেনা হাহ!
-কোনো ভুল কাজকে সমর্থন করিনি!
-হ্যাঁ বুঝেছি। অঙ্কুরের সাথে আপনারও বিবেক বিবেচনাবোধ লোপ পেয়েছে!
-যদি অঙ্কুরের মতোই হয়ে থাকি, আমি ধন্যা মুখ ফিরিয়ে নিলাম। উনি আবারো বললেন,
-জানো আহানিতা? সেই স্কুল থেকে অঙ্কুরকে চিনি আমি। ভাবতাম, সবটাই জানি ওর। বুঝি ওকে। ওউ এ পৃথিবীতে আমাকেই সে একমাত্র মানুষটার জায়গা দিয়েছে, যেখানে সবটা শেয়ার করা যায়। কিন্তু তুমি ওর জীবনে আসার পর থেকে মনে হচ্ছে ওকে চিনতে অনেকটাই বাকি রয়ে গেছে আমার।
-হ্যাঁ। বাইরের দুনিয়াও ভুলই চেনেন ওনাকে। উনি তো অন্য চরিত্রেরই মানুষ।
-আহানিতা, তুমি যা ভাবছে.....
-আমি যা ভাবছি? আপনি কেনো ভাবছেন না?ওনার না হয় বিবেক শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আপনি তো আলাদা একটা মানুষ! আপনিও কেনো তাহলে একই পথে হাটছেন? -কারন আমি জানি অঙ্কুর কোনো ভুল করতে পারে না।
-ভুল? কোনটা ভুল? উনি যা করছেন তা অন্যায়! এভাবে আটকে রেখে সেরোগেশনের জন্য আমাকে রাজি করাতে চান উনি!একটা বাঙালি মেয়ে সেরোগেশন বলতে কি বোঝে জানেন? সেরোগেশন মানে বিয়ের আগে বাচ্চার মা হওয়া। যেখানে ওর সতিত্ব নষ্ট হবে না ঠিকই, কিন্তু সমাজের কাছে ওর সম্মান?সবটা শেষ হয়ে যাবে। সবাই চেচিয়ে আঙুল
উচিয়ে ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলবে, ওই দেখো
সবাই, অবিবাহিত হয়েও অন্তসত্ত্বা ও!ওই সন্তান নাজায়েজ
ওই বাচ্চা......
রোহান ভাইয়া টেবিলে বারি লাগিয়ে উঠে দাড়ালেন। বললেন,
-স্টপ ইট আহানিতা জাস্ট স্টপ ইট!
ওনাকে রাগতে দেখে ভয় হলো না। উল্টে আশার আলো দেখলাম যেনো। আল্লাহ করুক, এই রাগটাই আমার সব প্রশ্নের জবাব এনে দেয়। জোর গলায় বললাম, -কেনো? কেনো থামবো বলতে পারেন? আপনি যা শুনতে পারছেন না, আপনার বন্ধু চান এই সবটা আমি শোনার জন্য প্রস্তুত হই।শুধুমাত্র আমাকে জোর না করে কি বোঝাতে চাইচ্ছেন উনি আমাকে? উনি মহান? আমার মতকে সম্মান দেখিয়েছেন? আমাকে সম্মান দেখিয়েছেন? যেখানে ওনার শর্তে আমাকে সবচেয়ে জঘন্যভাবে অপমান করছেন উনি! ওনাকে তো সবাই কতো সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে, বিশ্বাস ভরসা সবই করে। আর উনি? উনি তো এসবের যোগ্যই নন'উনি একজন বিশ্বাসঘাতকা লোভী একটা লোকাওনার তো....
-চুপাঅনেক বলেছো! আমিও শুনেছি।কিন্তু অঙ্কুরকে নিয়ে আর একবর্নও বাজে কথা না! -কেনো? কেনো শুনবেন না? কেনো বলবো না আমি? উনি তো তাইই ইনফ্যাক্ট উনি আরো..... উনি দুহাত একসাথে করে আকুতির স্বরে বললেন, -প্লিজ আহানিতা হাতজোর করছি তোমার কাছোআর বলো না!আর অপমান করো না ওকোঅঙ্কুরের বিষয়ে তুমি কিছুই জানো না।ও তো শুধু বাচার জন্য সম্বল চায়, একটা বাচ্চা চায়! আর কিছু তো নাকিছু না জেনে এভাবে বলো না প্লিজ! -জানতেই তো চাইছি! বুঝলাম একা জীবনে বেচে থাকতে একটা বাচ্চা চাই তার। কিন্তু সেরোগেশন করিয়ে কেনো বেবি চাইছেন অঙ্কুর বিয়ে করে একটা মেয়েকে তার প্রাপ্য
সম্মানটা দিয়েই বাচ্চার বাবা হতে পারেন উনি। এসবের
কি দরকার?
-অঙ্কুর ওর জীবনে কোনো মেয়েকে জড়াতে চায় না। বিয়ের বাধনে বাধতে চায় না নিজেকে!
-কেনো? বিয়ের মতো পবিত্র বাধনে একটা মেয়েকে আপন করতে কেনো চান না উনি?
-ভালোবাসতে পারবে না কাউকে সম্মান করতে পারবে না কোনো মেয়েকে! আসলে কি বলো তো আহানিতা?সব সম্পর্কেরই ভিত্তি হলো একে অপরের প্রতি সম্মানা আর সম্মানটা কোথায় থেকে আসে জানো আহানিতা?মা বাবার দেওয়া শিক্ষা থেকে। অঙ্কুর কোনোদিনও সে শিক্ষাটা পায়নি ওর বাবা মার কাছ থেকে। অঙ্কুর বরই আফসোস নিয়ে বলে জানোতো?ওর পরিবারটা আর পাঁচটা হাসিখুশি পরিবারের মতো হলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো কারো?আরেকটু
ধৈর্যশীল মা পেলে ওর জীবনটা হয়তো অন্যরকমই হতো। যতোদিন ওর মা বাবা কাছে ছিলো ওর, সবসময় ওর মাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখেছে ওর বাবার সাথে। তবে ওকে নাকি যথেষ্ট ভালোবাসে কাছে ডাকতো সে, কিন্তু সেগুলোকে স্বীকার করতে পারেনি অঙ্কুর। ওটুকো বয়সে ওর শিক্ষা এটুকোই ছিলো, মা বাবার সাথে বাজে ব্যবহার করে, ঝগড়া করে সবসময়।
কিন্তু হ্যাঁ, মাত্র নয় দশ বছর বয়সে ওকে ছেড়ে চলে গিয়ে ওর মা আরো একটা চরম শিক্ষা দিয়ে গেছে ওকে।
"মা হীন সন্তান, তার উপর বড়লোক বাবা, এ ছেলে বিগড়ে যাবে। মানুষ হবে না কোনোদিনই। "সবার এইসব কথার তীর সহ্য করেছে ও ওই বয়স থেকোভুল প্রমান করতে চেয়েছিলো সবাইকে। ওর বাবা বিদেশপাড়ি দিতে চাইলেন তার পরপরই। কিন্তু অঙ্কুর জেদ করে বিডিতে থেকে যায়। একা সবটা ছেড়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে ও।একা!সবটা ছেড়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে ও।ওর বাবার এক বন্ধু খোজ খবর নিতো ওর। কিন্তু তা একটুও প্রভাব ফেলেনি ওর জীবনে। ও একাই নিজের চেষ্টায় তৈরী করেছে নিজেকে। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকা ওর এই ক্রিকেট ক্যারিয়ার তার প্রমান। মাকে ছাড়াও বাচ্চা মানুষ হতে পারে। অনেক ভালো মানুষ হতে পারে। এজন্যই মা ছাড়া বাচ্চা চাই ওর!কাউকে নিজের জীবনে না জরিয়ে, কারো সতিত্ব নষ্ট না করে, সেরোগেশন করিয়ে বাচ্চা চাই ওর!
এতো অন্ধকারে ভরা ছেলেবেলা অঙ্কুরের? বাবা মা থেকেও তাদের ভালোবাসা জোটেনি ওনার। একাকী থেকেছেন এভাবে এতোগুলো বছর। ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে পারবেন না, তাই কাউকে নিজের জীবনে জড়াবেন না উনি। কারো সতিত্ব নষ্ট করবেন না, তাই কাউকে জোর করেও বাচ্চার বাবা হতে চান না। কিন্তু এসবের শেষেও সেই একটাই প্রশ্ন। আনিই কেনো তবে? শান্তভাবে বললাম,
-উনি বাচ্চা এডপ করতে পারতেন। সিঙ্গেল ফাদার তো অনেকেই আছে এ পৃথিবীতে। আর সেরোগেশনে রাজি হওয়ার জন্য আরো অনেকেই আছে। যারা আর্থিকভাবে সাহায্য পেলেই ওনাকে....
-এগুলোর কোনোটাই করবে না অঙ্কুর। কারন ও চায় বেবির মা তুমিই হও!
ওড়না খামচে ধরলাম। তারমানে উনি সত্যিই আমাকেই ভেবেছেন সেরোগেশনের জন্য। ওনার কথামতো, যে করেই হোক, আমাকেই তার বাচ্চার সেরোগেট মাদার হতে হবে! ভয়ে শুকনো ঢোক গিললাম কয়েকটা। গলা দিয়ে অস্ফুটস্বরে বেরোলো,
-আ আমিই ক্ কেনো?
-আমি চাই আমার বাচ্চার মা আপনি হবেন। শুধুমাত্র এই কারন, আমি চাই।আমি চাই বলেই, আমার বাচ্চার সেরোগেট মাদার আপনাকেই হতে হবে মিস অদ্রি! অন্য কেউ নয়! আমার প্রশ্ন শেষ হওয়ার সাথেসাথেই অঙ্কুরের জবাবাঘাড় ঘুরিয়ে ওনাকে পাশেই দেখতে পেলাম। চোখটা হাতের মোবাইলে তার। একটু ভরকে গেলাম। রোহান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি সে স্বাভাবিকভাবেই দাড়িয়ে। অঙ্কুর মাথা তুলে বললেন,
-তোকে বলেছিলাম রোহান, ওনার সাথে বেশি কথা না বলতে!
-এতো বেশি সেন্সিটিভ কেনো তুই আমাকে নিয়ে? এসব কবে বন্ধ করবি বলতো?
রোহান ভাইয়া কিছু না বলে সোফায় গিয়ে বসলেন। টিভি অন করলেন উনি। অঙ্কুর আমার দিকে এগোলেন দুপা। বললেন,
-এভাবেই সবাইকে কথার জালে ফাসিয়ে নিজের কাজ হাসিল করে নেন আপনি রাইট?এক্সপার্ট হয়ে গেছেন একদম! রোহান আমার দেখা টাফেস্ট পার্সোনগুলোর মধ্যে একজন! ওকেও নিজের কথায় ফাসালেন? আপনি সত্যিই আলাদা মিস!
কথার জালে ফাসানো, কাজ হাসিল করানো, এসব ভাষা
আজোবদি কোনোদিনও শুনতে হয়নি আমাকে। আজ
অঙ্কুরের কাছে এসব শুনে তার প্রতি ঘৃনাটা আরো গাঢ়
হলো। বললাম,
-এক্সপার্ট হলে হয়তো সব উত্তরগুলো পেয়ে যেতাম। কিন্তু আমি আমার উত্তর এখনো পাইনি!
ডোন্ট এক্সপেক্ট সো মাচ!
উনি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। কিছুটা উচুস্বরে বললাম,
-আপনার কাছে এক্সপেক্টেশন? হাহ! হাসালেন!
উনি থেমে গেলেন। পিছন ফিরে মোবাইলটা পকেটে পুরে বললেন,
-যদিও আপনাকে উত্তর দিতে এএসএ বাধ্য নয়, তবুও শুনে রাখুন, আমি চাই আপনাকেই মানতে হবে আমার শর্ত, যারমানে আপনাকেই মানতে হবে। আপনাকে সিলেক্ট করার কারন, নিতান্তই আমার চাওয়া। নাথিং এলস্!
-আমি আপনার চাওয়া পুরনে বাধ্য নই!
-হ্যাঁ, তা নন!কিন্তু আপনার কর্মফল? সেটা আপনি ভোেগ করতে বাধ্য তাইনা?
বিস্ময় বাড়লো। তার চাওয়ার কোনো গুরুত্বপুর্ন কারন আছে সেটা আন্দাজ করেছিলাম। এবার হিসেব মিলছে। কর্মফল। তার কাছে আমার কর্ম মানেই তার সত্যিটা জানা। এবার সবটা পরিষ্কার। বললাম,
-তারমানে বলতে চাইছেন, শুধুমাত্র আপনার বিষয়ে সেদিন ওসব জেনে গেছি বলেই আপনি....
-আপনি আমার বিষয়ে একটু বেশিই জেনে গেছেন। তবে আমি কিন্তু.....
-অঙ্কুর?
রোহান ভাইয়া ডাক লাগালেন। টিভির দিকে তাকিয়ে সোফা থেকে দাড়িয়ে গেছেন উনি। অঙ্কুর এগোলেন। পিছন পিছন আমিও গেলাম। অঙ্কুরের আগেরদিন ম্যাচ হারা নিয়ে নিউজ হচ্ছে। ব্রেকিং হিসেবে হেডলাইনে বড়বড় করে
লেখা, এএসএ'র নতুন রেকর্ড! জিরো রান, ওয়ান বলে আউট! আর লাইভ নিউজে দেখাচ্ছে তার সমর্থকরা হৈ হুল্লোড় লাগিয়েছে। অঙ্কুর ফ্যান তার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার আগের মতোই সেঞ্চুরী নিয়ে কামব্যাক আশা করছে। অঙ্কুর তাচ্ছিল্যে হাসলেন। বললেন,
-এটা তো কালকের নিউজ! আজকের আপডেট কি? চ্যানেল
পাল্টা!
রোহান ভাইয়ার কাছ থেকে রিমোট নিয়ে চ্যানেল পাল্টালেন উনি। রোহান ভাইয়া একধ্যানে তাকিয়ে রইলেন অঙ্কুরের দিকে। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রইলাম আমি। এতোগুলো মানুষের এতো আশা ওনাকে নিয়ে। আর উনি?সবটাই মুল্যহীন মনে করছেন! এতো আশা, বিশ্বাস ভরসার যোগ্যই নয় এই মানুষটা। তাদের আবেগ উপেক্ষা করতে চ্যানেল পাল্টাচ্ছেন। টিভিতে কিছু একটা দেখে আগ্রহ নিয়ে সোফায় কুশন কোলে নিয়ে বসলেন উনি।
অঙ্কুরের অতিমাত্রার আগ্রহ দেখে কপাল কুচকে এলো আমার। একপলক টিভির দিকে তাকালাম। যা দেখলাম, তাতে হতবাক না হয়ে পারলাম না। একপ্রকার তব্দা মেরে গেছি। প্রদীপ সরকারের সব কুকর্মের সঙ্গী, তার ডানহাত দীপক তালুকদার কালোটাকার ব্যবসায়ী হিসেবে প্রমানসমেত ধরা পরেছে। আর তার থেকেও বড় কথা। প্রমানগুলো সব আমারই ডকুমেন্টারি থেকে নেওয়া। খবরগুলো দেখে জমে যেতে লাগলাম যেনো। আন্তেধীরে এগোতে লাগলাম। আমাকে এগোতে দেখেই অঙ্কুর টিভি বন্ধ করে দিয়ে বললেন,
-এসব বিষয়ে ইন্টারেস্টটা একটু কমান মিস অদ্রি!রুমে যান! অনুভুতিশুন্য হয়ে তারদিকে তাকালাম। দীপক তালুকদার বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে নাম করেছেন ঠিকই, কিন্তু এই লোকটা মুলত কালোটাকার ব্যবসায়ী। টানা দুমাস ফলো করে, তার বিরুদ্ধে সব প্রমান জোগার করেছিলাম। এখানে আটকে পরার আগেই এসব ডকুমেন্টস্ ভোরের বাংলা খবরকাগজের এমডিকে মেইল করেছিলাম আমি। যা চারদিন আগেই পেপারে প্রিন্ট হওয়ার কথা ছিলো। সেগুলো আজকে কেনো প্রচার হচ্ছে?আর তো আর, টিভি চ্যানেলে কেনো?
আপনাকে রুমে যেতে বলেছি মিস অদ্রি!
-এসব.....
-রুমে যান।
-এ এক মিনিট মিস্টার অঙ্কুর, এই ডকুমেন্টস্..... উনি উঠে দাড়িয়ে চিৎকার করে বললেন, -জাস্ট গো টু ইউর রুম ড্যামিট।
কেপে উঠলাম কিছুটা। আজ প্রথমবার এতো উচু গলায় কথা বলেছেন উনি আমার সাথে। মাথা ফাকা ফাকা লাগছে। রোবটের মতো রুমে চলে আসলাম ওখান থেকে। এমডি স্যার নিজেও আমাকে চেনেন না। তার কাছে তো শুধু কাজটাই মানে রাখে। আমার দেওয়া প্রতিটা রিপোর্ট পেপারে প্রিন্ট করায় তাকে প্রতিবারই ধমকি শুনতে হয়েছে। এমনকি লাইফরিস্কও ছিলো তার। তবুও উনি সবগুলো নিউজ কভার করেছেন। কিন্তু আজকে খবরটা অন্য কোথাও কেনো? উনিই কি চ্যানেলে পাঠিয়েছেন এইসব? এই খবর ওনার পেপারে প্রিন্ট হলে ওনার পেপারের আরো নামডাক হতো অনেক বেশি। তবে?
চিন্তা হচ্ছোখবরটা ঠিক কোথায় থেকে কোথায় গড়িয়েছে? এমডি স্যার ডকুমেন্টসগুলো অন্যকোথাও দেওয়ার লোক নন। আর এসব উনি ছাড়া অন্য কারো কাছে থাকারও কথা না। তাহলে ঠিক কি ঘটেছে? কেউ কোনোভাবে ওনাকে ধমকে ওগুলো হাতিয়ে নিয়েছে? কে? দীপক তালুকদারের লোকজন? কিন্তু যদি তার লোকজনই হবে তবে তা নিউজে আসবে কেনো?না!এ অন্যকেউ! আর সে চায়নি এই খবরটা ভোরের বাংলায় প্রিন্ট হোক। রিপোর্টার অদ্রি নামে দীপক তালুকদারের সত্যিটা সবার সামনে আসুক। কিন্তু কেনো? কেনো কেউ এসব করবে? কে সে?
সারাদিন রুমেই কাটলো। দরজা লক ছিলো না আজ। আমিই ইচ্ছা করেই বেরোইনি। সকালে ভেবেছিলাম অঙ্কুর বেরোলে পালানোর উপায় খুজবো। কিন্তু দীপক সরকারের খবরটা দেখার পর কেমন যেনো ঘটকা লাগছে সবকিছুতে। চারদিন পর খবর বেরোনো, তাও টিভি চ্যানেলে, তাও আমারই সব ডকুমেন্টারী দিয়ে, আমার নাম ছাড়া। সবকিছুতে গুলিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া অঙ্কুরের ব্যবহার নিয়ে ভাবতে না চাওয়া সত্ত্বেও বারবার তার ধমকের কথা মনে পরে অস্থির লাগছে।
-এভাবে ছাড়া পেয়েও ঘরবন্দি হয়ে আছেন কেনো? দরজায় তাকিয়ে অঙ্কুরকে দেখতে পেলাম। হাতে খাবারের ট্রে। চুপ রইলাম। উনি ভেতরে ঢুকে বললেন,
-দুপুরে খেতে যাননি কেনো?
-খাবারটা খেয়ে নিন।
-খিদে নেই। নিয়ে যান ওটা!
-খিদে না থাকাটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমার বাসায় কেউ
না খেয়ে থাকবে সেটা আমি দেখতে পারবো না সেটা আমার ব্যাপার। সো, খেয়ে নিন। -দেখুন মিস্টার অঙ্কুর... আপনাকে হাত ধরে বিছানায় নিয়ে আসি এমনটা না চাইলে চুপচাপ এসে বসুন!
মেঝে ছেড়ে উঠে বিছানায় এসে বসলাম। উনি আমার সামনেই বসে খাবার মাখাতে লাগলেন। বললাম,
-আমি বলেছি আমি খাবো না!
