পেপারওয়েট ছেড়ে এএসএ তারদিক তাকালেন। উঠে দাড়িয়ে কোটটা টেনে ঠিক করে বললেন, -মানুষকে বাইরে থেকে দেখে বিচার করা উচিত না। আমি বরাবরই স্বার্থপর একটা মানুষ মিস্টার সরকার!স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজই করি না আমি। আর এটাও খুব ভালোভাবেই জানি, টাকাই পৃথিবীতে সব। সেটা বাবারই থাকুক, বা আমার। লাইফলিড করতে গেলে, আজ হোক বা কাল, টাকা কম পরবেই। তাই টাকাকেই প্রায়োরিটি দেই সবসময়। আর যেখানে একটা ম্যাচ হেরে আমি দশটা ম্যাচ জেতার সমপরিমান টাকা পাচ্ছি, কেনো বেকার খাটুনি খাটবো বলুন তো?
বারের এককোনে বসে আলোচনা চলছিলো তাদের। লুকিয়ে সবটা শুনছিলাম। ক্যামেরায় দুটো ছবি ক্লিক করেও নিয়েছি চুপিচুপি। কথা শেষে পাশের এক লোকের হাতে থাকা কয়েকটা ফাইলের মধ্য থেকে এএসএ'কে একটা ফাইল এগিয়ে দিলো প্রদীপ সরকার। উনি ফাইলটায় চোখ বুলিয়ে সাইন করতে লাগলেন। সাইন করা শেষে হাত মেলালেন দুজনে। ফাইলগুলো একটা ব্রিফকেসে রাখলেন প্রদীপ
সরকার।
ফাইলগুলো যে তার কুকর্মের প্রমান, সেটা বুঝতে বাকি রইলো না। তাছাড়া এএসএ'র এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রমানটাও আছে ওতে। তার ক্লাবের পরিচালককে সবটা দেখাবো আমি। এই লোক ইচ্ছে করেই পরের ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে হারতে চলেছে। নিজেও খারাপ খেলবে আর তার টিমকেও মিসলিড করবে হারার জন্য। তাই খেলার ফ্লো ঠিক রাখতে তাকেই ক্লাব থেকে বের করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য ওই ফাইলগুলোই আগে জোগার করতে হবে আমাকে। যাতে প্রমান করতে পারি এই লোকটা একটা
ওরা কথা বলছিলো তখনও। ক্লাবে বাকিসব নিজেদের মতো নাচ আর ড্রিংক করতে ব্যস্ত। আস্তেধীরে ক্লাবের এককোনে থাকা ফায়ার সেন্সরের কাছে গিয়ে লাইটার ধরলাম। সাথেসাথে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠলো। হন্তদন্ত হয়ে ছোটাছুটি করতে লাগলো সবাই। ভীড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে দরজার সামনেই দাড়ালাম। ফায়ার এলার্ম শুনে ক্লাবের ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। টর্চের আলোতে দেখলাম ভীড়ের মধ্যে এএসএ ও বেরিয়ে গেলেন। প্রদীপ সরকার যেইনা বেরোতে যাবেন, ইচ্ছে করেই ধাক্কা লাগিয়ে দিলাম তাকে। লোকটা হুড়মুড়িয়ে পরে গেলো। ব্রিফকেসটা একদম দুরে গিয়ে পরেছে। -সরি স্যার! সরি সরি! এক্সট্রেমলি সরি!সরি স্....
-স্টপ ইউর ননসেন্সাব্রিফকেসটা কোথায়? জলদি আনো! অন্য আরেকটা ব্রিফকেস তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, -এ এইতো! এইতো আপনার ব্রিফকেস স্যার! আগুন! আগুন শুনেই একদৌড়ে বেরিয়ে গেলো লোকটা। ক্লাবের বাকিসবের সাথে আমিও বেরিয়ে আসলাম। সবটাই ঠিক সেভাবেই হয়েছিলো, যেভাবে আমি প্লান করেছিলাম। ব্রিফকেসটা নিয়ে স্কুটি স্টার্ট দিয়ে অনেকটাই দুর অবদি চলেও আসি। কিন্তু হুট করেই দুটো গাড়ি এসে সামনে দাড়িয়ে যায় আমার। কোনোমতে স্কুটি থামিয়ে নেমে দাড়ালাম। সামনের গাড়িদুটোর একটা থেকে প্রদীপ সরকার আর ওর দলবল বেরিয়ে এলো। প্রদীপ সরকার বললো,
-এই মেয়েটাই ছিলো।ওর কাছেই আছে ব্রিফকেসটা! দশ বারোজন মিলে ঘিরে ধরলো আমাকে। দম মেরে দাড়িয়ে রইলাম। ভেবেছিলাম সবটা আমার পরিকল্পনামতোই হয়েছে। কিন্তু না, আজ ধরা পরে গেছি। কোনো রক্ষে নেই আর। হয়তো এটাই ছিলো নিয়তিতে। স্কুটিতে রাখা ৭ ক্যামেরা, ব্রিফকেসটা যথেষ্ট ছিলো আমার মৃত্যুর কারন হিসেবে। ছোটাছুটির চেষ্টাটাও করিনি। জানতাম লাভ হবে না। প্রদীপ সরকারের ইশারায় এক লোক এগোলো আমার দিকে। বললো, -স্যার! মেয়েটাকে তো ওই ক্লাবে কোনোদিন দেখিনি!ও পুলিশের কোনো গুপ্তচর হবে নিশ্চিত! প্রদীপ সরকার তেড়ে এলো আমার দিকে। বললো, -কে তুমি?
-এই মেয়ে? কথা বলোকে তুমি?কি ভেবেছিলে তুমি?আমার আড্ডায় ঢুকে, আমাকেই বোকা বানিয়ে, আমার বিরুদ্ধেই প্রমান জোগার করে নিয়ে চলে যাবে আর আমি টেরও পাবো না?এতোটা সাহস তোমার?
-চুপ করে আছো কেনো? জবাব নেই?
-এতো সময় নেই আমার একটা প্রশ্নের জবাব দাও। তুমি কে? -এমনি এমনি জিজ্ঞাসা করছি না তোমার নামাকাল নিউজে তোমার মৃত্যুসংবাদ কি নামে টেলিকাস্ট হবে বলো?৭ ডেডবডি তো কেউ খুজে পাবে না! আইডেন্টিফিকেশনও সম্ভব হবে না! তাই...... চোখ তুলে তাকালাম। কোনোরুপ সংকোচ ছাড়াই বলে দিলাম,
-অদ্রি।
সবাই খানিকটা বিস্ময়ে তাকালো। একটু থেমে থেকে প্রদীপ সরকার বললো,
-ওওও! আই সি!তুমিই অদ্রি? ফ্রম ভোরের বাংলা? অনেক শুনেছি তোমার নাম। এভাবে দেখা হবে ভাবিনি।বাট আই ওয়ান্ট টু মেক মেমোরেবল দিস মিটিং ইউনিক ডেথ দেবো তোমাকে অদ্রি!এটুকো বয়সে এতোবেশি সাহসিকতা!তার পুরষ্কার আরো অনন্য হওয়া উচিত! এমন ভয়ংকর মৃত্যু হবে তোমার, সাংবাদিকতা পেশাকে ভুলে যাবে এদেশের মানুষ! আই উইল মেক শিওর দ্যাট অদ্রি!
চোখ বন্ধ করে রইলাম। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করলাম নিজেকে। কিন্তু মনিমাকে শেষবারের মতো দেখতে পারবো না ভেবে চোখ বেয়ে পানি পরতে লাগলো শুধু। এরমধ্যেই কেউ বলে উঠলো,
-কেউ ছোবে না ওকে!
চোখ মেললাম আমি। ল্যাম্পপোস্ট, স্কুটি আর গাড়ির হেডলাইটের আলোয় দেখলাম এএসএ আমার সামনেই দাড়িয়ে। তারমানে কথাটা উনিই বলেছেন। উনি আবারো বললেন,
-একে আমার হাতে ছেড়ে দিন মিস্টার সরকারা আমি দেখে নেবো একে!
উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে তারদিক তাকিয়ে। একবারের জন্য ভেবেছিলাম হয়তো বাচাবেন বলে ওমনটা বললেন উনি। কিন্তু না, উনি তো বললেন আমাকে দেখে নেবেন। আবারো চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম। একটু সময় নিয়ে প্রদীপ সরকার বললো,
-তুমি?এসবের অভ্যেস নেই তোমার এএসএ!
-করে নেবো ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ম্যাচ ডিল করতে আসলাম, সেখানে কেউ বাধা হয়ে দাড়াবে, আই ওন্ট টলারেট দ্যাট মিস্টার সরকার!এর ভবিষ্যৎ আমি ডিসাইড করতে চাই!
-কিন্তু...
-আই ওয়ান্ট হারাএন্ড আই মিন ইট!
-ওকে ওকে। এতো জোর করছো যখন, নিয়ে যাও।তবে হ্যাঁ, এটা অবশ্যই নিশ্চিত করবে ওর মুখ যেনো বন্ধ থাকে। নইলে আমার সাথে সাথে কিন্তু তোমারও এতোবছরে তৈরী করা নাম ধুলোয় মিশে যাবে এএসএ! উনি বাকা হেসে বললেন,
-এএসএ জানে, ওর কি করনীয়। এনিওয়েজ, আসছি। এটুক বলেই উনি সোজা এসে হাত ধরলেন আমার। তাদের সম্পূর্ন কথোপকথনের সময়ও উনি আমার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। আমাকে নিয়ে চলে আসতে গিয়ে আবারো কি মনে করে থেমে গেলেন উনি। পেছন ফিরে বললেন, -ও হ্যাঁ!টাকাটা যেনো আমার একাউন্টে আজই ট্রান্সফার হয়ে যায়! পরশু ম্যাচে এএসএ জিবো বলে আউট হচ্ছে! এন্ড ইটস্ ফাইনাল! -অবশ্যই!
উনি আমার হাত ধরে হাটা লাগালেন। পিছন ফিরে দেখলাম একজন আমার স্কুটির দিকে এগোচ্ছে। ব্রিফকেসটা নেবে বলে হয়তো। একটুপরেই বিকট শব্দা বিস্ফোরন হয়েছে খানিকটা দুরে। আবছা হয়ে আসতে লাগলো চারপাশ। শেষ অবদি শুধু চোখে পরলো আমার স্কুটিটা জ্বলছে। তারপর আর কিছুই মনে নেই।
জ্ঞান ফেরার পর এএসএ'র বাসায় পাই নিজেকে। যে মানুষটা এভাবে টাকার জন্য ম্যাচ ডিল করেছে, ভেবেছিলাম তার সত্যিটা জেনে ফেলায় আমাকে মেরে ফেলবেন উনিও। হয়তো ওদের দেওয়া মৃত্যুর চেয়ে আরো ভয়ানক মৃত্যু হবে আমার। কিন্তু না।উনি তো মারেন নি আমাকোমারবেনও না। তবে হ্যাঁ, তার থেকেও ভয়ংকরভাবে রেখে নরকযন্ত্রনায় বাচিয়ে রাখতে চাইছেন উনি আমাকে। আমাকে ছেড়ে দিলেও তার সত্যিটা কেউ জানতো না। জানাতে পারতাম না আমি। কোনো প্রমানই তো নেই আমার কাছে।তবুও শাস্তি দিচ্ছেন উনি আমাকে। শুধু এজন্য, তার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সত্যিটা আমি জানি
সারারাত বৃষ্টি ছিলো। সকালেও অনেকক্ষন বৃষ্টি হয়েছে। থেমেছে খুব বেশিক্ষন হয় নি। তবুও ঝলকানো রোদ উকি দিচ্ছে এখনই। গাছপালার ভিজে পাতার সবুজ রঙ আর আকাশের নীলচাদোয়া মন ভরিয়ে দেয় যেনো। ঠান্ডা শিরশিরে বাতাস বইছে। পরিবেশটা উপভোগ করার মতোই। কিন্তু তবুও ভালো লাগছে না, বিষাক্ত লাগছে। এ ঘরটাও অঙ্কুরের ঘরের মতো বড়সড়, গোছানো। ব্যালকনি আছে। তাই ব্যালকনিতেই এসে মেঝেতে বসেছি।
-আপনাকে এমন চুপচাপ মানায় না মিস পর্বতশৃঙ্গ।
অঙ্কুরের গলা। না শোনার মতো করেই বসে রইলাম। পাশে ট্রাউজার পরা ব্যক্তিটির পা চোখে পরলো। উনি বললেন, -প্রদীপ সরকার কনফার্ম হতে এসেছিলো, আপনার সাথে ঠিক কি হয়েছে।
-আমার নেক্সট ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের ডেট ফিক্স হয়েছে।
-আচ্ছা মিস অদ্রি? ধরুন আমার আর প্রদীপ সরকারের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ডিল করার সে ফাইলটা দিয়ে আপনাকে মুক্তি দিয়ে দিলাম আমি। আপনি ইনস্ট্যান্টলি নিউজ করবেন সেটা নিয়ে তাইনা?
একপলক তাকালাম তারদিকে। উনি মৃদ্যু হেসে বললেন, -কিছু তো বলুন?
-আপনার মনিমা আপনাকে খুব ভালোবাসে তাইনা? -আপনিও ওনাকে খুব ভালোবাসেন তাইনা মিস অদ্রি? অঙ্কুর এবার আঙুল দিয়ে একদিকে দেখিয়ে উৎফুল্লভাবে বললেন,
-রংধনু উঠেছো দেখুন মিস অদ্রি!
তাকালাম সেদিক। সত্যিই রংধনু উঠেছে। অঙ্কুর তাচ্ছিল্যে হেসে বললেন,
-ওই বিশাল আকাশটাও কখনো কখনো নিকষ কালোতে ঢেকে যায় ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির পর ওর নীল রঙ, আর রংধনুর সাতরঙ সে মেঘের অাধারকে ভুলিয়ে দিয়ে যায়াআমার জীবন তো তার চেয়ে কতো ছোট। এতে স্বাভাবিকভাবে
রঙের জোগান দেওয়াটা কি এতোটাই কঠিন ছিলো উপরওয়ালার জন্য? খুব ভুল কিছু হয়ে যেতো, কিছু রঙ আমার জীবনটাতে এটে দিলে? নাকি আমার এটুক চাওয়াটাই এতো অভাবের কারন?
কথাগুলোতে আটকে রইলাম। উনি ছলছল চোখে আমার দিকে তাকালেন। মোচড় দিয়ে উঠলো ভেতরটা। অঙ্কুরের এই রুপ আমার অজানা, অচেনা! একটু সময় ওভাবে তাকিয়ে থেকে পরপরই চোয়াল শক্ত করে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলেন উনি রুম থেকে। নিজের মতো আবারো বসে থেকে অশ্রুবিসর্জন দিতে লাগলাম নিরবে।
মাঝখানে আরো দুদিন কেটে গেছে। লক্ষ্য করলাম এ ঘরটাতে তেমন আসেন না অঙ্কুর। তাই দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও আমিও আর বেরোই নি। যতটা দুরে থাকা যায় তার থেকে! প্রদীপ সরকারের আগমন নিয়ে কোনো কিছুই জানি না। প্রথম দুদিনের মতো গার্ডসরা এসে খাবার দিয়ে চলে যেতো। আবার নিয়ে যেতো।
-আহানিতা?
নিষ্প্রান দৃষ্টিতে দরজায় তাকালাম। রোহান ভাইয়া এসেছেন। মুখ ফিরিয়ে নিলাম। উনি আরো এগিয়ে এসে বললেন,
-এ কি হাল বানিয়েছো তুমি নিজের?
-এমন কেনো করছো আহানিতা?
উনি সামনে এসে বসলেন আমার। বললেন,
-কেনো দুজনে এভাবে একে অপরকে কষ্ট দিচ্ছো আহানিতা? বলতে পারো, এতে কার ঠিক কি লাভ হচ্ছে?
ভাষাহীনভাবেই তাকালাম তারদিকে। একে অপরকে কষ্ট? অঙ্কুর কষ্টপাচ্ছেন? ওহ্।ওনার তো বেবি চাই, সেটা না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। রোহান ভাইয়া বললেন,
-অঙ্কুরকে কাল সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না আহানিতা। একটু বিস্ময়ে তাকালাম। কাল সকালেই শেষবার কথা হয়েছিলো ওনার সাথে আমার। কোথায় গেলেন উনি? এজন্যই আসেন নি এ রুমে? তাতে অবশঙ্ক আমার কিছুই না। বললাম,
-এখানে, তার বাসায় বসে, তাকে অবশ্যই আমি কিডন্যাপ করি নি।
-না।তা করো নি। কিন্তু তুমি ওর মনে দুর্বলতা গুজে দিয়েছো আহানিতা। আর এই দুর্বলতাই ওর নিখোজ হওয়ার কারন! -এএসএ?আর দুর্বলতা?
-না। তুমি। আর অঙ্কুরের দুর্বলতা।
-প্লিজ ভাইয়া, একা থাকতে দিন আমাকে। চলে যান এখান থেকে।
কোনা? একা কেনো থাকবে? তোমরা তো দুজনে একাকী
ডিসার্ভ করো না! অঙ্কুরকে একটু বুঝ......
-ওনাকে নিয়ে কোনো কথা শুনতে চাইনা আমি ভাইয়া!প্লিজ! আপনাকে ভাইয়া ডেকেছি। নাইবা পারলেন আমাকে মুক্তি দিতে, অঙ্কুরের বিরুদ্ধে বলতে, তা বলে আমার শুনতে চাওয়া না চাওয়ার মতকে এটুকো সম্মান দিন?
-কেনো? কেনো অঙ্কুরের সবটা শুনতে চাও না তুমি? শুধুমাত্র ওর বাইরেরটা দিয়ে কেনো ওকে যাচাই করছো আহানিতা? যে ছেলেটা কাউকে নিজের জীবনে জড়াতে চায়না কোনোদিন, কাউকে ভালোবাসার কথা ভাবতেও পারে না, আজ সেই ছেলেটা তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে আহানিতা। এসবের কারন জানো আহানিতা?কারন ও তোমাকে....
-কারন উনি আমাকে শাস্তি দিতে চান!
-না!শাস্তি নয়! ও তো তোমাকে......
ধরাম শব্দে দরজা খুলে গেলো। চমকে উঠে চশমা ঠেলে তাকালাম দরজায়। অঙ্কুর এসেছেন। ঘৃনাটা বরাদ্দ ছিলো তার। কিন্তু তার চেহারার অবস্থা দেখে আমার ভেতরটা ধক করে উঠলো। উশকো খুশকো চুল, চোখ লাল হয়ে কোঠরে বসে যাওয়া টাইপ। ওনার সাথেই আরেকজন বয়স্ক লোকও এসেছেন। অঙ্কুর এগোলেন। একপলক রোহান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে, একটা কাগজ এনে আমার সামনে ছুড়ে মেরে শান্ত গলায় বললেন,
-সাইন ইটা
বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে অন্যদিকে তাকালাম আবারো। উনি আবারো বললেন,
-সময় নষ্ট করবেন না মিস অদ্রিাসাইন ইট! চুপচাপ বসেই রপলাম। হুট করে আমার ওড়না হাতে পেচিয়ে ধরলেন অঙ্কুর। টান পরতেই উঠে দাড়ালাম। কিছু বলার আগেই চশমাটা খুলে ছুড়ে ফেলে দিলেন উনি। বললেন, -সাইনটা করুন! আপনাকে আপনার মনিমার কাছে দিয়ে
আসবো।
মনিমার কাছে নিয়ে যাবে শুনেই চোখ চকচক করে উঠলো আমার। পরক্ষনে কাগজে সাইন করার শর্ত মাথায় আসতেই সবটুকো খুশি নুইয়ে গেলো। বললাম,
-কিসের কাগজ ওটা?
-আমাদের বিয়ের!
বিস্ফোরিত চোখে তাকালাম তার দিকে। তারমানে এবারের শর্ত মনিমার কাছে যেতে চাইলে রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করতে হবে আমাকে। করবো না। বললাম,
-আগেই বলেছি, পচে মরবো এ বাসায়, তবুও কোনো বিয়ে হবে না করবো না আপনাকে বিয়ে!
-সাইনটা করুন মিস অদ্রি! ডোন্ট ওয়েস্ট টাইম!
-করবো না বললাম তো!
-আপনি আপনার মনিমার কাছে যেতে চান না?
-চাই। তবে আপনাকে বিয়ে করে নয়!
-দেখুন! আপনাকে যেতে হলে আমার শর্ত মেনেই যেতে হবে।
-যাবো না, তবুও আপনার শর্তে রাজি হবো না!
উনি হাত মুঠো করেই দাড়িয়ে ছিলেন এতোক্ষন। জোরে শ্বাস নিয়ে এদিকওদিক হেটে আঙুল কপালে স্লাইড করালেন। তারপর একদম আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললেন, -মিসেস আফরা খানম হসপিটালাইজড্ মিস অদ্রি!গতকাল সকালে হার্ট এটাক করেছেন উনি! পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো আমার। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরতে লাগলো। পেছোতে পেছোতে বললাম,
-- না.ম্ মনিমা...
-আপনাকে না দেখতে পেয়ে ওনার অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। সাইনটা করুনা নিয়ে যাবো আপনাকে তার কাছে। একটু থামলাম। মনিমার অসুস্থ্য হওয়ার খবরটা মিথ্যে হতে পারে। যদি এটা বলে উনি আমাকে ঠকিয়ে..... একটা শুকনো ঢোক গিলে কোনোমতে বললাম,
-ব বিশ্বাস করি না আপনাকে। কিছুই হয় নি মনিমার।
অঙ্কর আবারো কপাল ধরে এদিক ওদিক তাকালেন
