গল্প সবটাই তুমি পর্ব ৪

 সকালে নিজেকে বিছানায় দেখে আতকে উঠলাম। ধরফরিয়ে উঠে বসে নিজেকে খুতিয়ে খুতিয়ে পর্যবেক্ষন করলাম কিছুক্ষন। না!সবই ঠিক আছে। শ্বাস নিলাম একটা। কিন্তু রাগটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে ভুললো না। ভোরের আলো চোখে পরায় ঘুম ভেঙেছে। রুমের যে কোনাটায় পরে থেকেছি এ দুদিন, সে বরাবরই একটা জানালা। কিন্তু আমি সেখানে নেই। রাতে ওখানে বসেই কাদতে কাদতে চোখ লেগে গিয়েছে কখন টেরটিও পাইনি।


 

কিন্তু আগের সকালদুটোর মতো মেঝেতে নয়, আজ সকালে বিছানায় আবিষ্কার করেছি নিজেকে। আর আলোটা জানালা দিয়ে বিছানাতেও আসে। যদিও রাতে পর্দা টেনে দেই আমি, আজ কেউ ইচ্ছে করেই সেগুলো সরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। উঠে নেমে ওয়াশরুমে চোখেমুখে পানির ছিটে দিলাম। এসে আবারো সেই কোনটাতেই হাটু জরিয়ে বসে পরলাম।


জানালার বাইরে দিয়ে তাকালে নিচের বাগানে ফোটা নানারঙের ফুল চোখে পরে। একটারও নাম জানি কি না সন্দেহ। বাগানের সাদা চারপাশে দেয়াল। দেওয়ালের উপরে কাচের টুকরো বসানো। যতোদুর চোখ যায়, অনেকটা দূরে একটা দ্বিতল ভবন আর গাছ ছাড়া এই জানালায় আর কিছুই চোখে পরে না। তাই মুক্ত আকাশে মুক্ত সাদা মেঘের ভেলা দেখাতেই চোখকে মানিয়েছি আমি। কিন্তু মন বিষিয়ে উঠেছে আমার। কেউ বিছানায় এনেছে আমাকে। আর কেউই নয়, এ কাজ এএসএ'রই। উনিই স্পর্শ করেছেন আমাকে। রাগে কাপতে শুরু করেছি। তবুও শক্ত হয়ে বসে রইলাম।


দরজা খোলার শব্দ কানে আসলো। এতোটুকো না নড়ে ওভাবেই বাইরে তাকিয়ে রইলাম। আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। অন্যান্যদিন খাবার দিয়ে লোকগুলো নতমস্তকে বলে যায়, ম্যাম আপনার খাবার। আজকে কিছু বললো না কেনো? প্রশ্নের উত্তর খুজতে ঘাড় ঘুড়িয়ে দরজায় তাকালাম। কেউ নেই! খাবারও নেই! দরজাটাও খোেলা! বিস্ময়, আগ্রহ দুটোই হলো আমার। চশমা ঠেলে উকিঝুকি দিয়ে দেখতে লাগলাম। না। সত্যিই কেউ নেই দরজায়। চোখ চকচক করে উঠলো আমার। একছুটে বেরিয়ে এলাম ঘরটা থেকে।



রুমের বাইবে করিডরে দাড়াতেই তব্দা মেরে গেলাম আমি। এতোবড় কোনো বাড়িতে এর আগে কোনোদিন ঢুকেছি বলে মনে পরে না। বেরোনোর রাস্তা খুজতে গিয়ে বাড়িটার সাজসজ্জা দেখে আটকে রইলাম কিছুক্ষন। দেয়ালে থাকা ৭ পেইন্টিং, শো পিস, ফুলদানী সবকিছু অনেক শৌখিনভাবে সাজানো। অফহোয়াইট দেয়ালগুলো আর সাদা পর্দার জন্য আরো ঝলমল করছে সবকিছু যেনো। করিডর ছেড়ে গুটিগুটি পায়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নামার জন্য পা বাড়াতেই কেউ একজন বলে উঠলেন,


অঙ্কুর তোমাকে একদম ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতে বলেছে! থেমে গেলাম। পাশেই ইন করা সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট পরে এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে। তাকে দেখে ভদ্র বলেই মনে হলো। বললাম,


-ভূ ভাইয়া, আ আমাকে প্লিজ.....


-আমি রোহান। অঙ্কুরের ফ্রেন্ড। আর...


-দেখুন ভাইয়া, আমাকে প্লিজ বাইরে যাওয়ার..... -তোমার তো বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই! -ভাইয়া প্লিজ! পায়ে পরছি আপনার! মিস্টার অঙ্কুর আসার আগেই আমাকে প্লিজ এ......


-দেখো, অঙ্কুর তো বাসাতেই আছে। আর আম্... এতো কথা বলা শোনার সময় নেই আমার। পা বাড়ালাম নিচে নামবো বলে। কিন্তু পেছন থেকে কেউ হাত ধরে ফেললো আমার। চমকে উঠে পিছন ফিরলাম খানিকটা ভয় নিয়েই। কিন্তু এএসএ কে দেখে ধপ করে গায়ে আগুন ধরে গেলো আমার। 


Next part  dekty clik korun 

Post a Comment

Previous Post Next Post