আপনাকে আমার শর্তে রাজি হতেই হবে। ইটস্ ফাইনাল।
-কি চাইছেন কি আপনি?আম্...
-আপনার লাইফের দশমাস সময় আমাকে দিতে হবে আপনাকে। এটুকোই! আমার সন্তানকে শুধু দশমাস নিজের গর্ভে ধারন করতে হবে আপনাকে, যাকে বলে সেরোগেট মাদার! তারপরই আপনার মুক্তি। ডোন্ট ওয়ারি, এএসএ স্পর্শও করবে না আপনাকে। জাস্ট টিনি একটা অপারেশন হবে, তারপরই আপনি প্রেগনেন্টাদশমাস পর বেবি হয়ে গেলেও আপনি পুরোই ভার্জিন থাকবেন। এজ সিম্পল এজ দ্যাট!
সেরোগেশন! এতোবড় কথাটা উচ্চারন করতে এতোটুকো বাঝে নি তার। এই লোকটা এতো নিচ মানসিকতার লোক কেউ কোনোদিন হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না। সবাই তো কতো ভালো ভালো বলে তাকে নিয়ে। আমিও তো তাই জানতাম, মানতাম আর উনি?ওনার আসল রূপটা জেনে গেছি এই কারনে আমাকে এতো বাজে ভাবে অপমান করতে চাইছেন উনি।না!তা কোনোভাবেই হতে দেবো না আমি। নিজেকে সামলে শক্ত গলায় চেচিয়ে বললাম, -স্টপ অল দিজ ননসেন্স! আপনি ভাবলেন কি করে আপনার কথায় আমি সেরোগেশনের জন্য রাজি হয়ে যাবো?এতোটা খারাপ মনের মানুষ আপনি? আপনাকে তো...... উনি কানটা চুলকে বললেন,
-ওরে বাবা সত্যিই আপনার ঝাঝ আছে বলতে হবে।
যাইহোক, এসব বলে কোনো লাভ নেই। আমি জানি, আমি কি!
শুধু বলুন আপনি রাজি কি না।
আমাকে মেরে ফেললেও আপনার এই প্রস্তাবে আমি রাি
হবো না মিস্টার অঙ্কুর!
বেশ জোর গলায় বললেন কথাটা? উম্ম্পকারনটা কি এটাই যে এ দুদিনে কোনো ক্ষতি করি নি আপনার?একারনেই ভেবে নিয়েছেন, আপনাকে মেরে ফেলবো না আমি?
-শুনুন মিস অদ্রি আমি সত্যিই মারবো না আপনাকে। জাস্ট আপনার এই সাংবাদিক পরিচয়টা...
-সবাইকে জানিয়ে দেবেন তাইতো?জানিয়ে দিন!সবাই জেনে গেলে কি?দু চারজন খারাপ লোক, যাদের এগেনিস্টে আমি আর্টিকেল লিখেছি তারা এসে মেরে ফেলবে আমাকে এইতো? কিচ্ছু যায় আসে না আমার তাতে। মৃত্যুকে কোনোদিনও ভয় পাইনি আমি মিস্টার অঙ্কুরা তাই.....
-আরে আরে, শেষ করতে দিন আমাকোউফাঅনেক কথা বলতে পারেন আপনি দেখছি।শুনুন, সবাইকে নয়, আপনার মনিমাকে জানাবো শুধুাতার আহানিতা, তাকে লুকিয়ে জার্নালিজমে জড়িয়েছে। তারপর যা হবার...... থেমে গেলাম আমি। এতোক্ষনে চেচিয়ে প্রতিটা শব্দ উচ্চারন করতে থাকা গলাটার জোর ফুরিয়ে আসতে লাগলো। আমার সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ততা মনিমা মানতে পারবে না কোনোদিনও। ও চলে যাবে আমাকে ছেড়ে। একা হয়ে যাবো আমি!কি করে থাকবো মনিমাকে ছাড়া? শেষ হয়ে যাবো! এএসএ উঠে দাড়ালেন এবার। বললেন,
-এতোটাও বোকা নই আমি মিস অদ্রি যে, আপনাকে মৃত্যুর ভয় দেখাবো। ওটাতো একটা বাচ্চাও জানে, অদ্রি নামটা জীবন বাজি রেখেই ছ মাসে এতোসব নিউজ কভার করে এসেছে। আর আমি তো চাক্ষুস দেখেছি, আপনি আমার বিষয়েও অনেককিছু প্রমানসমেত জোগার করেছেন। মৃত্যুভয় থাকলে প্রদীপ সরকারের ওখানে যেতেন না আপ তাই ভয়টা সে বিষয়েই দেখালাম, যা দেখে সত্যিই ভয় পান
আপনি। আপনার মনিমার সঙ্গাএবার বাকিটা আপনি ঠিক করুন!
শব্দ করে কেদে দিলাম আমি। বললাম,
-কেনো এমন করছেন আপনি? আপনার কি ক্ষতি কর..... -কোনো ক্ষতি করেননি আপনি আমার। কিন্তু হ্যাঁ, আমার কথা না মানলে আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। আপনার পরিচয়, আপনার সম্মান কিছুই অবশিষ্ট রাখবো না আমি। যতোটা ভালো বলে সবাই আমাকে চেনথ, ততোটা ভালো কিন্তু আমি নই। আমার চাওয়া পুরন করতে, সব সীমা পার করতে পারি আমি। তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত, সরি সিদ্ধান্ত কেনো বলছি? ভেবেচিন্তে বেশি সময় না নিয়ে তাড়াতাড়িই হ্যাঁ বলুনাআপনি অবশ্যই শুধুমাত্র দশমাস আমাকে না দিয়ে, আজীবনের তরে নিজের সম্মান আর মনিমাকে হারাতে চাইবেন না রাইট? ডিসিশন ইজ ইউরসাযতো তাড়াতাড়ি হ্যাঁ বলবেন, ততো তাড়াতাড়িই স্বস্তি, মুক্তি দুটোই পাবেন! মেক এভরি সেকেন্ডস্ কাউন্ট মিস অদ্রি!
চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরতে লাগলো আমার। প্রদীপ সরকারের ওখানে তাদের হাতেই মরতে পারলে হয়তো তা ভালো হতো। যখনতখন ধরা পরলে মৃত্যু, এমনটা জেনেই এই কাজে নিজেকে জরিয়েছিলাম আমি। কিন্তু উনি যা বলছেন তা তো মৃত্যুর চেয়েও বড় শাস্তি হবে আমার কাছে। ওখান থেকে বাচিয়ে এনে আরো বড়, ভয়ানক শাস্তি দিতে চাইছেন উনি আমাকে। দরজা খুলে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন এ এস এ।কি মনে করে আবারো পিছন ফিরলেন। বললেন,
-আমি চাইলেই আপনার প্রেগনেন্সির দুদিন হয়ে যেতো আজ!কিন্তু আমি আপনাকে জোর করতে চাইনা। তাই আ ভদ্র ব্যবহার চলাকালীনই রাজি হয়ে যান। আমার বেবি
চাই, আর সে আপনার গর্ভেই বেড়ে উঠবে মিস অদ্রি!এট এনি কস্ট!
দম মেরে বসে রইলাম মেঝেতেই। মাথা কাজ করছে না আমার। ওনার বাচ্চা চাই, তবে বিয়ে করছেন না কেনো? সেরোগেশন করিয়ে বাচ্চার কি দরকার? যদি তাও হয়, তবে এর জন্য আমিই কেনো? এতোবড় শাস্তি কেনো দিতে চাইছেন উনি আমাকে? শুধুমাত্র ওনার জীবনের একটা চরম সত্যি জেনে গেছি বলে? নাকি আরো বড় কোনো কারন?
পর্ব ৪ ফেসবুকে পাবেন
