গল্প সবটাই তুমি পর্ব ২৬











 যদিও জানি, উনি স্পোর্টম্যান, খেলাধুলায় পারদর্শীই হবেন, তবুও তার প্রকাশ্য চ্যালেন্জকে মানা করতে পারলাম না।জীবনে চুড়ান্তবার হারানোর আগে একবার এই খেলাতেই হারিয়ে দেখাই আপনাকে মিস্টার অঙ্কুর!ডেমো দিতে তো দোষ নেই কোনো। বাসা থেকে বেরিয়ে এসে তার সামনে এসে দাড়ালাম। উনি বাকা হেসে বললেন,


-সত্যিই চলে এলে চ্যালেন্জ নিতে?


-হ্যাঁ। আসলাম... জিততে।


-হুম?তারমানে তুমি বলতে চাইছো আমাকে হারাবে?


এএসএ'কে?


-আগেই বলেছি তো, আপনিও জানেন, আপনাকে হারাবো বলেই এখানে আসা আমার।


-নট ব্যাড! আই লাইক ইওর স্পিরিট! বেশ। তবে হয়ে যাক? তিনবার বাস্কেটের জন্য বল ছুড়বো।প্রথম দুবার ট্রায়াল,তৃতীয়বার ফাইনাল।


-ডান!


বাস্কেট থেকে বেশ কিছুটা দুরে মুখোমুখো দাড়ালাম দুজনে। বল উপরে ছুড়ে মারলেন উনি। লাফিয়ে উনিই আগে


ধরেছেন। বাউন্স করাতে করাতে এগোচ্ছিলেন উনি। এক


পর্যায়ে ছো মেরে নিয়ে নিলাম বলটা। উনি পথ আগলানোর চেষ্টা করতে করতে বললেন,


-নাইস প্লে!তবে আমার কাছে এখনো শিষ্য তুমি অদ্রি।আর আমি খুব ভালো গুরু ট্রাস্ট মি।একদম হাতে ধরে শেখাবো তোমাকে ওয়েট!


উনি কেড়ে নিলেন বলটা। বাউন্স করিয়ে বললেন,


-লেসন নাম্বার ওয়ান, কনফিডেন্স ভালো,তবে ওভারকনফিডেন্স ভালো না। তার এ কথার মাঝেই আমি ছিনিয়ে নিয়েছি বল। উনি তখনো বলছেন,


-ওভার কনফিডেন্সের জন্য হারতে হতে পারে তোমাকে অদ্রি। কাউকে আন্ডারেস্টিমেট করো না। এমনটা না হয়, সেখানটাতেই তোমার হারের শুরু। শেষ মুহুর্তে তোমার সাজানো প্লানটা ভেস্তে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতে পারে সে। বাস্কেট অবদি পৌছে গেছি। বাস্কেটের জন্য সবে বল ছুড়বো, কথাগুলো শেষ করেই আমার হাত থেকে অঙ্কুর ছিনিয়ে নিলেন বলটা। মুহুর্তেই কি হয়ে গেলো বুঝে উঠিনি। রীতিমতো বল বাস্কেট করেছেন উনি। রাগে পা ছুড়লাম। এমন হার প্রত্যাশিতো ছিলো না আমার।একটা শ্বাস নিয়ে তবুও এসে দাড়ালাম দ্বিতীয় বাস্কেটের জন্য।অঙ্কুর মাথায় আঙুল ঠেকিয়ে তার কথাগুলো মাথায় রাখতে বোঝালেন আমাকে। বল উপরে ছুড়লাম আমিই।এবার বলও আমিই ধরলাম। বাউন্স করিয়ে বাস্কেটের দিকে এগোচ্ছিলাম খুব সাবধানে। অঙ্কুর বল কাড়ার চেষ্টায়। আগেরবারের রাগটার জন্য বল ছুতেও দেইনি এবার তাকে। উনি বললেন,


-লেসন নাম্বার টু,রাগ সবসময় সফলতার অন্তরায়।রাগকে জয় করে মন দিয়ে লক্ষ্য নির্ধারন করতে হয়।যা মন থেকে করার চেষ্টা করবে না, তা কখনোই পারবে না তুমি। এটুকো বলে আবারো প্রথমবারের মতো বল কেড়েছেন উনি। বাস্কেটেও ফেলেছেন। কিন্তু এবার বাস্কেট করেছেন আমার




দিক তাকিয়ে থেকে। পুরোই উল্টোদিক ফিরে। অঙ্কুর একটা বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে বললেন,


-টোল্ড ইউ! আমার সাথে কম্পিট করতে এসো না!


-লাস্ট আর ফাইনাল রাউন্ড এখনো বাকি অঙ্কুর। উনি বাকা হেসে বললেন,


-হার মানো নি তবে?


-আপনার লেসনের মধ্যে এটাও এড করুন অঙ্কুর। জয় তারই হয়, যে হার মানতে জানে না।


মুচকি হেসে তৃতীয়বার বল ছুড়লেন উনি। বল আমার হাতে ছিলো। এবার যথেষ্ট সতর্কভাবে খেলছিলাম আমি। বেশ অনেকটা সময় অঙ্কুর আটকেছিলেন আমাকে। কিন্তু সুযোগ বুঝেই একসময় তাকে পাশ কাটিয়ে বল বাস্কেটে ছুড়ে মারলাম। এটা একটা বাস্কেট ছিলো। এবার জয়ের খুশিটা আমার হাজারগুন ছিলো। কারন এটাই ফাইনাল রাউন্ড ছিলো। অঙ্কুর কোমড়ে হাত দিয়ে বড়সড় হাসি ঝুলিয়ে বললেন,


-এন্ড লেসন নাম্বার থ্রি, কখনো কখনো হেরে যাওয়ার মধ্যেই জিতে যাওয়ার চেয়ে হাজারগুন বেশি প্রশান্তি অনুভব হয়। যা পৃথিবীর বাকি সবরকমের জয়ের খুশির উর্ধ্বে।তাই হার মানতেও শিখতে হয়।


তীক্ষ্মচোখে তাকিয়ে হেরে যাওয়ার পরও তার চেহারার ওই খুশির হাসিটা দেখছিলাম আমি।পাশেই একলোক গাছে পানি দিচ্ছিলো। উনি বললেন,


-স্যার হেরে গেলেন? আপনি তো বরাবরই জিততে


ভালোবাসেন।

অঙ্কুর হেসে বললেন,


-ভালোবাসা?এই শব্দটা অঙ্কুরের সাথে যায় না। তাইনা অদ্রি? চোখ সরিয়ে নিলাম। হুট করেই মনে পরলো সত্যিই তাই। এটা তার সাথে যায় না। এটা তার বিপরীত। এটা যে তার পাসওয়ার্ড হবে তা কেউ কল্পনাও করবে না।চোখ চকচক করে উঠলো আমার। পরপরই নিজেকে সামলে বললাম, -আপনি হেরে গেছেন। যাবেন। আসছি।


অঙ্কুর মাথা নিচু করে হাত বাড়িয়ে বাসারদিক ইশারা করলেন। মোটামুটি একছুটে রুমে চলে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম। বর্নগুলোতে চোখ বুলালাম আরেকবার।


E,Y,U,O,A,L,V,M,আর স্পেস বাটন।একটা শ্বাস নিয়ে আগে প্রথম শব্দটাই লিখলাম।অঙ্কুরের বিপরীত।LOVE!হাত কাপছে আমার। স্পেস ব্যবহার করে আর বাকি থাকে U,Y,A,M.


Y আর U দেখে চোখ বন্ধ করে LOVE এর পর স্পেস রেখে YOU লিখে দিলাম।ধক করে উঠলো ভেতরটা।A আর M শুধু বাকি আছে। আর যা দিয়ে একটা শব্দই সম্ভব। মা। কাপাকাপা হাতে পুরোটাই লিখে নিলাম আমি।এগারো ডিজিটের পাসওয়ার্ডটা ছিলো LOVE স্পেস YOU স্পেস MA.অঙ্কুরের ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড, লাভ ইউ মা!


এটা কি করে সম্ভব?উনি তো মনিমাকে ঘৃনা করেন!হ্যাঁ। এজন্য সম্ভব! কেউ ধারনাও করতে পারবে না তার পাসওয়ার্ড লাভ ইউ মা হতে পারে। শতভাগ নিশ্চিত হলাম আমি,এটাই তার পাসওয়ার্ড। দরজা খোলার শব্দে তাড়াতাড়ি আড়াল



করলাম কাগজগুলো। অঙ্কুর এসেছেন।চেন্জ করে একপ্রকার রেডি হয়ে এসেছেন উনি। যেনো কোথাও যাচ্ছেন। উনি দরজাতে দাড়িয়ে বললেন,



-আজ বাইরে ডিনার করবো। ফিরতে দেরি হবে। তুমি খেয়ে নিও।


উত্তর দেয়নি কোনো। উনি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। দরজা লাগাতে গিয়ে আবারো থেমে গিয়ে বললেন,


বি হোয়াট ইউ আর অদ্রি।জোর করো না নিজেকে অন্যকিছু - সাজানোর জন্য। জোর করো না।


উনি বেরিয়ে গেলেন।চুপচাপ পিছনপিছন এসে ব্যালকনির একটু আড়ালে দাড়িয়ে দেখলাম গাড়িতে করে বেরোচ্ছেন উনি। একদৌড়ে তার রুমে আসলাম। দরজা লাগিয়ে কাপাকাপা হাতে ধরলাম ল্যাপটপটা। পাসওয়ার্ড দিতেও হাত কাপছে প্রচন্ড।ভয় লাগছে।আর সবচেয়ে অদ্ভুত অনুভুতি! দ্বিধায় পরছি বারবার।বারবার মনে হচ্ছে কোথাও ভুল করছি আমি। যেখানে আমি জানি, অঙ্কুর দোষী। উনি নিজে স্বীকার করেছেন। একটা জোরে শ্বাস নিয়ে পাসওয়ার্ড টাইপ করলাম। LOVE YOU MA.


ল্যাপটপের লক খুলে গেলো। নিজেকে সামলে একে একে সমস্ত ডকুমেন্ট, ফাইল ওপেন করে দেখতে লাগলাম। কিন্তু সেখানে যা যা দেখলাম,তার অনেক কিছুই মানতে পারছিলাম না। অবিশ্বাস্য লাগছিলো। তব্দা মেরে বসে রইলাম। মাথা কাজ করছিলো না। এরমধ্যেই কেউ বলে উঠলো,


-লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। সাইন্সটা বেশ ভালোই কাজে লাগিয়েছো তুমি অদ্রি। হ্যাটস্ অফ টু ইউ!তবে এই সাইন্স আমিও কিছুটা জানি। আর তার সাথে তোমার মতো ট্রিকস্ত!


ব্যালকনি দিয়ে বাইরের বিদ্যুৎ চমকানোর আলোটা চোখে পরছে। ঠান্ডা বাতাসও গায়ে এসে লাগছে। পর্দা উড়ে উঠেছে সে বাতাসে। মেঘের ডাকাডাকি শুরু।হয়তো বৃষ্টি হবে আজ। রাতের আধারটাকে কালো মেঘ আরো নিকষ, কুৎসিত কালো বানিয়ে দিচ্ছে যেনো। চোখ সরিয়ে অঙ্কুরের দিকে তাকিয়ে বললাম,


-আপনি সবটাই জানতেন!


যেভাবে রেডি হয়ে বেরিয়েছিলেন উনি, সেভাবেই এসেছেন। ঠোটে টেডিস্মাইল নিয়ে পকেটে একহাত গুজে এগোলেন ঘরের ভেতরে। তারপর আয়নার সামনে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘড়ি খুলতে লাগলেন।ল্যাপটপ ছেড়ে বিছানা থেকে নামলাম। হাত মুঠো করে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম। উনি শার্টের উপরের বোতামদুটো খুলে আমার সামনে দাড়িয়ে গোটানো হাতা ছাড়াতে ছাড়াতে লাগলেন। আমার প্রশ্নে থেমে গিয়ে হাসিটা রেখেই তাকিয়ে রইলেন শুধু।আবারো বললাম, -বলছেন না কেনো?সবটা বুঝে গিয়েছিলেন আপনি?


উনি আরো প্রসারিত এক হাসি দিলেন।কোমড়ে দুহাত গুজে বেশ মজা নিয়ে বললেন,


-তোমার কি মনে হয়?হুট করে এ বাসায় তোমার চুলের রুপচর্চা করার ইচ্ছা জাগ্রত হবে, আমার কাছে হেল্প চাইবে, হাত ধুতে না দিয়ে বউয়ের মতো আদর করে হাত ওড়নায় মুছিয়ে দেবে,অসময়ে দরজা লাগাতে গিয়ে তোমার হাতে ব্যথা লাগবে, তোমার মাথাব্যথা না থাকা সত্ত্বেও ফার্স্ট এইড বক্স ওই রুমে নিয়ে যাবে,আর তো আর,সে বক্স হাতের



সামনে না রেখে একপ্রকার লুকিয়ে রাখবে,তোমার এসব মাত্রাতিরিক্ত অস্বাভাবিক ব্যবহার, আমি স্বাভাবিকভাবে নেবো?


তারপর আমার দিকে আরেকটু ঝুকে বললেন,



তাছাড়া মেঝেতে থাকা একটুকরো লিটমাস পেপার আর লেবুর রসের ঠিক কি সম্পর্ক থাকতে পারে তার আইডিয়া আছে আমার। অতোটাও বোকা আমি নই! ভুলটা ঠিক ওখানেই ছিলো।তাড়াহুড়োয় হয়তো পরে গিয়েছিলো লিটমাস কাগজ। বললাম, -সবটা জেনেও আপনি আমাকে....


-হ্যাঁ, চাইলে তখনই তোমার....! তোমার এই ভালোমানষির মুখোশ খুলে দিতে পারতাম।তবে তোমাকে কিছুতে ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন ছিলো। যাতে সেটুকো সময় ফাইলগুলোর উপর থেকে নজর সরে তোমার। বুঝলাম। উনি ডিসট্র্যাক করতে চাইছিলেন আমাকে।মাথা নিচু করে রইলাম। অঙ্কুর বললেন, -


এভাবে অপরাধীর মতো দাড়িয়ে আছো কেনো?অপরাধ করেছো?


-কথা বলছো না যে! কোনো.... অন্যায়টন্যায় করে ফেলোছো?


-আপনার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড লাভ ইউ মা?যখন আপনার মা তো আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। এ বাসায় তার পরিচয়, সে মৃত, যেখানে তার মৃত্যুর বিষয়ে কেউ কিছুই জানে না।সে আদৌও মৃত কি না তার সত্যতা নেই। ঘৃনা করে তাকে নাকি? তারপরও পাসওয়ার্ড লাভ ইউ মা?


সোজা হয়ে দাড়িয়ে পকেটে হাত গুজলেন উনি। হাসিটা রেখেই বললেন,


-বাস্তবতা দিয়ে পাসওয়ার্ড যাচাই করবে?এতটা বোকা তুমি নও অদ্রি!


-সব জেনেও পাসওয়ার্ড পাল্টান নি কেনো?


না পাল্টিয়ে কি কোনো ক্ষতি হয়েছে আমার?নাকি খুব লাভ হয়েছে তোমার?কিছু পেয়েছো?


উনি বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে বিছানার দিকে এগোচ্ছিলেন। বলে উঠলাম,


-আপনার লয়ারের মেইল এসেছিলো।


অঙ্কুর থেমে গেলেন। পিছন ফিরলেন কিঞ্চিত বিস্ময়ে। এবার আমি মৃদ্যু হেসে বললাম,


-সব ডকুমেন্টস্ সরিয়ে ফেলেছেন ঠিকই, কিন্তু সাথে মেইল অপশনটাও হাইড করা উচিত ছিলো আপনার।


অঙ্কুরের চোখমুখ শক্ত হয়ে আসলো নিমিষেই। উনি হাত মুঠো করে বললেন,


-প্রিভিয়াস মেইল ডিলিট করিছি।


-হ্যাঁ। রিসিভ মেইল অপশন তো বন্ধ করেননি তাইনা? মেইল রিসিভ হয়েছে। আর ওনাকে আমি ইমারজেন্সি মেইল করেছি।মেইলসেন্ড হয়েছে অঙ্কুর।আর তার রিপ্লাইও দিয়েছেন উনি।


-কি বলেছো তুমি?


-আমি শুধু একবার মেইল করেছি।উনিই প্রথমে মেইল করেছিলেন। সেটাতে লেখা ছিলো,রেজিস্ট্রি পেপার ইস্যুতে আরো সময় লাগবে। বললাম পেপারের কপি সেন্ড করতে,উনি তাই করলেন।এটুকোই!


অঙ্কুর নুইয়ে মাথা নিচু করে রইলেন। তাচ্ছিল্যে বললাম, -এভাবে অপরাধীর মতো দাড়িয়ে আছেন কেনো?অপরাধ করেছেন কোনো?


উনি টলোমলো চোখে তাকালেন। নিজেকে শক্ত রেখে



বললাম,


-কথা বলছেন না যে! কোনো অন্যায়টন্যায় করেছেন?




-অদ্রি ওটা.....


-আমি বলবো? কোনো অন্যায় করেন নি আপনি। বিয়েটা তো বেবির জন্যই করেছিলেন।তা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ হলেই বা কি আসে যায়? আর এটা আমি জানলেই বা কি আসে যায়? আমি কিন্তু স্বাভাবিকই আছি।একদমই অবাক হয়নি, কষ্ট পাইনি। শুধু আমাকে অপমানের ষোলোকলা পুর্ন হলো আপনার। আবার কষ্ট পাইনি বললাম বলে আপনার কষ্ট হচ্ছে না তো অঙ্কুর?


উনি হাত মুঠো করে চোখ বন্ধ করে রইলেন। মৃদ্যু হেসে বললাম,


-দু বছরের কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ!বিয়ের দিন বললেই পারতেন। আমি তো জানতামই, সবাইকে বলা আপনার ভাষ্যমতে ভালোবেসে বিয়ে করছেন না আপনি আমাকে। আমাকে জানালে সমস্যা হতো না আপনার। কিন্তু আপনি হয়তো ভেবেছিলেন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ দেখলে বিয়েটা করবো না আমি।এজন্যই সেদিন আমার চশমা ছুড়ে ফেলেছিলেন আপনি তাইনা?


-যাই হোক, সফল আপনি। বিয়েতে, আমাকে অপমান


করতে, কষ্ট দিতে। এই টপিক নিয়ে কথা নাই বলি আর! উনি চুপ রইলেন। একপা এগিয়ে বললাম, -এবার আমার বাকি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন অঙ্কুর!মৃত্তিকা ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোের্ট ইন্ডাস্ট্রির সাথে আপনার কি সম্পর্ক? অঙ্কুর বিস্ফোরিত চোখে তাকালেন আমার দিকে।বললাম,


-এতোটা অবাক হচ্ছেন কেনো?মৃত্তিকা এক্সপোর্টের বিষয়ে আমি কি করে জানলাম এটা ভেবে?


-আপনি বেশ ভুলোমনা অঙ্কুর। ভুলে যাচ্ছেন, মানুষের সার্চ হিস্ট্রি অনেক কথা বলে।ওগুলো ডিলিট করতেও ভুলে গিয়েছিলেন আপনি। যেখানে আপনার সার্চ লগ জুড়ে শুধুই মৃত্তিকা ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্টস্!


অঙ্কুর মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আবারো তার চেহারায় রাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। উনি বললেন,


-কতোটুকো জেনেছো?


-জানি না। আপনাকে যতই দেখি ততই রহস্য লাগে আমার কাছে। আপাতত এটুকো জবাব দিন,আপনার বাবার এতো কষ্টে গড়ে তোলা ইম্পোের্ট এক্সপোের্ট কোম্পানি, টাকায় টাকায় তাকে ভরিয়ে রাখা, শাইন ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কি করে মৃত্তিকা ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট নামে বদলে গেলো?আর তার বর্তমান মালিক কে?প্রদীপ সরকার! এটা কবে, কখন, কেনো


ঘটলো?


-তোমাকে কেনো বলবো?


-কারন আমার জবাব চাই!আপনার বাবার সাথে প্রদীপ


সরকারের কি সম্পর্ক, জানতে চাই আমি!


-চুপ করে থাকবেন না অঙ্কুর! জবাব দিন! -আন্সার মি অঙ্কুর!এ বিষয়ে আজ কোনো আপোষ করবো না আমি! আপনি জবাব না দিলে....


-বাবার বিজনেস পার্টনার ছিলো প্রদীপ সরকার। ওনার শান্ত জবাব।কথাটা শুনে ভেতরটায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো। নিচদিক তাকিয়ে একটু পিছিয়ে গেলাম।


Post a Comment

Previous Post Next Post