অপ্রিয় সেই জন পর্ব ২

 

কথা বলতে বলতে ইফাজের গলা ধরে এসেছে। খুব ভালোবাসতো সে পিছকে কিন্তু সেই পিছ তার সাথে আজ এতবড় প্রতারণা করলো?? পিহু ইফাজের দিকে তাকিয়ে কেঁদেই চলেছে। পিহু বলল,'প্লিজ ইফাজ সবটা চোখের দেখায় বিচার করাটা ঠিক না। একবার আমার কথা...'



'কি শুনবো তোমার কথা?? সবটাই তো নিজের চোখেই দেখে নিলাম। এতদিন মানুষের কাছে শুনেছি কিন্তু বিশ্বাস করিনি আজতো নিজের চোখে দেখলাম অবিশ্বাস করি কিভাবে??'


পিহু অবাক হয়ে গেল। কে ইফাজকে ওর নামে উল্টাপাল্টা খবর দিলো?? পিহু কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইফাজ পিহুর দুবাহু শক্ত করে ধরলো। ব্যথায় পাচ্ছে পিহু কিন্তু আজকে এই ব্যথা যেন কিছুই নয়। এর থেকে হাজার গুণ বেশি ব্যথা ওর বুকে হচ্ছে। ইফাজ পিছকে ঝাঁকিয়ে বলল, কেন এমন করলে?? একবার ও ইশানের কথা ভেবে দেখনি??'


ইফাজের কথায় পিহুর ঘোর কাটে। ইফাজের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দরজার দিকে তাকায়। বড় টেডি বিয়ার আর রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে ইশান। পিছ আর ইফাজের একমাত্র ছেলে ইশান। বয়স মাত্র দশ। ইশান হাতের খেলনাগুলো আঁকড়ে ধরে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। 



পিছর বুকটা ধক করে উঠল। ইশান ও কি তার বাবার মতো তাকে ভুল বুঝবে?? আম্মু বলে কি আর ডাকবে তাকে?? বুকের ভেতর জ্বলছে খুব। আগে ইফাজকে সবটা বোঝাতে হবে। পিছ আবার ইফাজের দিকে তাকিয়ে বলল, ইফাজ আমার কথা শোনো।'



ইফাজ আবার হাত ওঠালো পিহুকে থাপ্পর মারার জন্য। পিহু চোখটা খিচে বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু যখন দেখলো যে

ইয়াংজ একে আঘাত করছে না তখন চোখ মেলে তাকালে

নেহাল ইফাজের হাতটা ধরে রেখেছে। ইফাজ ক্রোধ নিয়ে নেহালের দিকে তাকাতেই নেহাল ধাক্কা মেরে ইফাজকে সরিয়ে দিলো। তারপর বলল, 'অনেক হয়েছে আপনার বলা। এবার থামুন।'


ইফাজ রাগে গজগজ করতে করতে বলে, তুই কে আমাদের মাঝে কথা বলার?? আমি আমার স্ত্রীকে মারব তুই বলার কে??

বলেই নেহালের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো। নেহাল বলল, কিন্তু এখন তো বুঝতে পারছেন যে পিহু আপনাকে চায় না। তাহলে আপনি আমাদের মাঝে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেন??'নেহালের কথা শুনে পিহু রাগন্বিত স্বরে বলে, 'নেহাল।'



'প্লিজ পিহু আজকে আমাকে বাধা দিও না। দেখুন পিছ আপনার সাথে হ্যাপি নয়। কি নেই আমার গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সা সব কিছু আছে। আর আপনার থেকেও নেই। কি জন্য পিহু আপনার সাথে থাকবে বলুন তো। তাই আপনি আমাদের মাঝে আর থাকবেন না। চলে যান তাহলে আপনি ও হ্যাপি আর আমরাও হ্যাপি।'

কথা শেষ হতেই পিহু নেহালের গালে থাপ্পড় মারলো। নেহাল নিচের দিকে তাকালো। ইফাজ পিছর হাত ধরে বলল,'তোমাদের এই মোলড্রামা বন্ধ করো। অনেক হয়েছে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তুমি হ্যাপিনেস চাও তো?? তাই হবে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে চলে যাব। তোমরা তোমাদের মতো করে সুখে থেকো।'

ইফাজ পিহুর হাত ছেড়ে রুমে চলে যায়। পিহু কড়া নজরে নেহালের দিকে তাকিয়ে বলল, 'আগে ইফাজকে সবটা বোঝাই তারপর তোমাকে দেখছি।' বলেই পিছ ইফাজের।


বোঝাই তারপর তোমাকে দেখছি।' বলেই পিহু ইফাজের পিছু পিছু রুমে যায়। নেহাল বাকা হেসে বের হয়ে যায়। ওর কাজ শেষ এখানে আর থাকা চলবে না।


ইফাজ রুমে গিয়ে নিজের জামাকাপড় গোছাচ্ছে আর পিছ বারবার বাধা দিচ্ছে কিন্তু ইফাজ কোন কথা শুনতে চাইছে না। পিছকে বারবার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু পিছ তাতে দমছে না। বারবার ইফাজের সাথে কথা বলতে চাইছে কিন্তু ইফাজ কিছুই শুনছে না।


ছোট্ট মীরা দরজার পর্দা ধরে তাকিয়ে আছে পিহু আর ইফাজের দিকে। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে সব দেখেছে। পাঁচ বছর বয়সী মীরা কিছু বুঝতে পারছে না। ছোট একটা টেডি বিয়ার কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে তো ঘুমিয়ে ছিল। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে তার ঘুম ভেঙেছে।


 তারপর যেসব কান্ড ঘটছে তা ওর ছোট্ট মাথায় ঢুকছে না। তবে সে এটুকু বুঝতে পারছে যে ইফাজ আর ইশান চলে যাবে। মীরা চোখ ঘুরিয়ে ইশানের দিকে তাকালো। ইশান এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। 

মীরা আস্তে আস্তে ইশানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় বলে, ইশান ভাইয়া তুমি আর ভালো আব্বু কি চলে যাবে??'


ইশান মীরার দিকে তাকালো। এতক্ষণ সে মা বাবার রুমের দিকে তাকিয়ে ছিলো। মীরার প্রশ্নে সে চকিতে তাকিয়ে বলে,'হুম মীরা। এই নে তোর বড় টেডিবিয়ার।'

ইশান টেডিবিয়ারটা মীরার দিকে এগিয়ে দিলো। মীরা নিলো না বলল, তোমরা চলে যেও না ইশান ভাইয়া। আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি আর তোমার সাথে দুষ্টুমি করব না তবুও যেও না।'

ইশান মীরার হাতে টেডিবিয়ার দিয়ে মীরার মাথায় হাত রেখে বলল, চিন্তা করিস না মীরু আমি বড় হলে তোকে একদিন নিয়ে যাব আমার কাছে।'


          Next part: Facebook 

Post a Comment

Previous Post Next Post