( পর্ব-০৩)
লেখক- রিয়াজ রাজ
------------------------------------
ঘুমানোর আগে আমি গায়ে পানি পড়া ছিটাইনি। সেদিন অনেকটা ক্লান্ত ছিলাম।আরাফ অফিস থেকে আসে।তাকে খাবার খাইয়ে বাসার সব কাজ শে*ষ করেছি। এরপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে যাই ঘুমাতে। আরাফ আর আমার বাচ্চা ততক্ষণে ঘুম। আমি বিছানায় শুয়ে চোখটা বন্ধ করতেই আমার বাচ্চার কা*ন্নার শব্দ ভেসে আসে। হুট করে চোখ খুলে দেখি,সেই ডাইনী আর আমার স্বামী মিলে আমার বাচ্চাকে কা* ম ড়ে খা চ্ছে।
জোরে এক চি*ৎকার দিতেই আমার স্বামী এসে আমাকে ধরে। আমার বাচ্চাও ঘুম থেকে জেগে কা*ন্না শুরু করলো। আমি অবাক হয়ে তাকালাম চারপাশে। এতক্ষণ আমি শুধুই একটা স্বপ্ন দেখলাম।আমার বাচ্চা আর স্বামী আমার পাশেই ঘুমাচ্ছে।
আরাফের প্র*শ্নে আমি থতমত খেয়ে যাই। এরপর তাকে স্বপ্নের বিষয়ে জানাই। আরাফ সূরা পড়ে আমাকে ফুঁ দেয়।তারপর ঘুমাতে বলে। কিন্তু আমার আর ঘুম আসলো কোথায়। সারা রাত চোখ বন্ধ ছিলো।তবে আমি অনেক শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কেও রুমে হাটে,কেও দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কেও বাথরুমের দরজাটা খোলে। মোট কথা আমার কানে একটার পর একটা শব্দ আসছিলো।
ফজরের আযান দিলে আমি উঠে যাই। নামাজে দাড়ানোর সময় পুরো গা ভার হয়ে যায়। যেনো আমার ওজন আগের চেয়ে ৩ গুন বাড়লো,অন্যদিকে মাথাটাও ঝিম দিয়ে উঠে। তবুও ক*ষ্ট করে নামাজ আদায় করে নিয়েছি। এইভাবে ছোট ছোট স ম স্যা য় আমার দিন কা*টতে থাকে।
এসবের মধ্যে আবার আমার শাশুড়ির নি র্যা ত ন শুরু হয়। আমার বাপের বাড়ি থেকে কেনো এইটা সেটা আনিনা। সেসব নিয়ে আমাকে মানসিক ট র্চা র করতে লাগলো। আমার ভাসুরের স্ত্রী এসবে বেশ আনন্দ পেতো। ধীরে ধীরে এদের ব্যবহার বাজে হয়ে যাচ্ছে আবার। শুরুর দিকে আমার স্বামীকে এসব শেয়ার করতাম। সেও আমাকে সা*পোর্ট দিতো।বলতো," চিন্তা করিওনা।আমরা আলাদা হয়ে যাবো"। কিন্তু ১ মাস না যেতে আরাফ নিজেই পরিবর্তন হয়ে যায়। সে নিজেই আমার ভু*ল ধরতে থাকে। সামান্য কিছু নিয়েই আমার সাথে ঝ গ ড়া শুরু করে। আমি তর্ক না করে যদি চুপ থাকি। তবে আমার সামনে এসে আমাকে ধ ম কা তে থাকে। প্রচুর ব*দমেজাজি হয়ে যায় সে। আমি কোথাও শান্তি পাচ্ছিলাম না। বাড়ির একটা লোকও যখন ভালো ব্যবহার করেনা।তখন সেই বাড়ি একটা মেয়ের জন্য ন র কে পরিণত হয়।
দিন যেতে থাকে। আমি আবারো প্রেগন্যান্ট হই। আরাফ আমার সাথে অনেক ঝ গ ড়া করলেও,মাঝে মাঝে প্রচুর ভালো আচরণ করে। রাতে আমাকে ভালো সময়ও দিয়েছে। এমনো রাত গেছে,আমাদের মিলনের মাঝখানে সে আমার ভুল ধরে। আমি তাকে খুশি করতে পারিনা বলে, ধা ক্কা দিয়ে আমাকে ফে৷ ক লে দেয়। এই মুহুর্তটা একটা মেয়ের কাছে কতটা কষ্টকর, তা একটা মেয়ে বুঝবে। আমি তখন কান্না করেছিলাম। আমার কান্নার শব্দ তার অসহ্য লাগছে,তাই সে বিছানা থেকে এসে ইচ্ছেমত মা র ধ র করেছে আমাকে। এক একটা লা থি আমার ঘাড় আর পিটে পড়েছে। এক প্রকার তার মা র খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতাম। কি ভাবছেন,এইটা শুধু সেদিনি? না,অনেক রাত এইভাবে কে*টেছে আমার। রাতে সে আমাকে মা র তো,আমি ফ্লোরে অ জ্ঞা ন হয়েই পড়ে থাকতাম।একেবারে সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গতো।
যখন পেটে আমার বাচ্চা আসে। তখন আরাফ আরো বেশি বদলে যায়। আমার সাথে ঘুমাতে নাকি তার অ স হ্য লাগে।বাসায় এসে অন্য রুমে চলে যেতো ঘুমাতে। আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে শুয়ে থাকতাম একা। এদিকে আরেকজন পৃথিবীতে আসার জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছে।
আরাফ এমন একটা মানুষ হয়ে যায়। সে তার মায়ের কথার এক চুল পরিমাণ নড়েনা। আগে আমার হাতে টা*কা জমা দিতো। আজ বহুদিন একটা পয়সাও আমার হাতে দেয়না। সব ওর মায়ের কাছে। আমার জা কোনোভাবে বাসা ঝাড়ু দিয়ে পুরো বাসায় টইটই করে।তাও তাকে কেও কিছু বলেনা। এদিকে আমি প্রেগ*ন্যান্ট অবস্থায় পুরো বাসার কাজ সেরেও কারো মন পাচ্ছিলাম না। আমার সব এলোমেলো হতে থাকে।
একই ঘটনা সয়ে সয়ে আমার সময় কা*টে। আমার ২য় সন্তান পৃথিবীতে যখন আসে।তখন আরাফ দেখতেও আসেনি। আমার মা বাবা এসে আমাকে হসপিটালে নিয়েছে। আমার মা বাবাকে দেখে আমার শাশুড়ি আর জা এসেছে আমার সাথে।কিন্তু সমস্ত সেবা যত্ন আমার মা-বাবাই করলো। শাশুড়িরা এসে শুধু তামাশা দেখেছে। এবং কি,হসপিটাল বিল পর্যন্ত আমার বাবা দেয়।
বাচ্চা হবার উছিলায় আমি কদিন রেস্ট পাই।আমাকে আবার বাড়ি নিয়ে এলে,আমার জা নিজে বাড়ির কাজ সামলাতো। তবে কদিন যেতে না যেতে,আমার ডাক আবার পড়ে।অসুস্থ শরীর নিয়েও আমাকে বাড়ির সকল কাজ ধরতে হয়।
আমার জীবনে হয়তো এর পরিবর্তন আসবে আমি ভেবেছিলাম।কিন্তু দেখতে দেখতে ২০১৮ সালে আমি পা দিয়েছি। তখনো একই ঘটনা আমার সাথে ঘটে। এদিকে ১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমার বাবা দুনিয়ার মায়া ত্যা গ করলেন। বাবার মৃ* ত্যু র পর শশুর বাড়ির লোকেরা আরো খা* রা প আচরণ করে আমার সাথে। আমার বাবা নেই,তারমানে যাবার মতো কোনো জায়গাও নেই। আরাফ তো আছেই মায়ের দুলাল হয়ে। প্রতি মাসে ২-৩ রাত আমার সাথে ঘুমাতো। বাকি রাতগুলা সে একাই ঘুমায়।
২০১৯ সালের শুরুর দিকে,অর্থাৎ আমার বাবা ম রা র ৮ মাস পর আমার " মা" প র কা লে গমন করে। আমি সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইনা। যাদের মা বাবা এইভাবে চলে গেছে,তারা বুঝবেন এর মর্ম।এতোদিন যা ছিলো তা সয়ে এলেও,আমার মায়ের মৃ *ত্যু র পর ওদের ট* র্চা র আরো বেড়ে যায়। আমার মা বাবার সম্পদ সব ওদের নামে লিখে দিতাম। আমি রাজি হইনি।জানি এরা এসব পাবার পর আমাকে দেখবেওনা আর। কিন্তু সেদিন আমার শাশুড়ি আর জা আমার গায়ে হা ত তোলেন । আমার স্বামী সব দাঁড়িয়ে দেখেছে। আমাকে মা *রা র হাত থেকে বাচানো তো দূরের কথা। সে একটাবার জিজ্ঞেসও করেনি," তাকে মা* র ছো কেন?"।
সব কিছু সহ্য করতে করতে আমি নিতে পারছিলাম না আর। কয়েকবার সু* ই সা ই ড করতে চেয়েছি। কিন্তু আমার দুইটা বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে করতে পারিনি। শে*ষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম,পুরো পরিবারের উপর ব্লা*ক ম্যা*জিক করবো। সবাইকে আমার বশে নিয়ে আসবো। এই সিদ্ধান্ত'টা এক প্রকার রা*গ থেকে এসেছে।
আমার কিছু ফ্রেন্ডের থেকে একটা কবি*রাজের ঠিকানা বের করেছিলাম আমি। কথামতো উনার সাথে দেখাও করি। সমস্যার কথা জানালে তিনি আমাকে বললেন," আপনার স্বামীর উপর বান মা রা আছে। আপনার শশুরের পর,আপনার শাশুড়ি আপনাদের উপর কা*লো যা*দু করেছে। যাতে আপনার স্বামীর সাথে আপনার বিচ্ছেদ হয়। আর আপনার স্বামী যাতে আপনার শাশুড়ির কথা শুনে। কারণ আপনার শাশুড়ি এখনো মনে করে, আপনার শশুরের মৃ *ত্যু আপনার জন্যেই হয়েছে "। কবিরাজ আমাকে একটা তা*বিজ দেয়। আর বলে," আপনার স্বামীর উপর সকল বান কে টে দিচ্ছি আমি। আর এই তাবিজ আপনি রুমের কোথাও লুকিয়ে রাখবেন। আর কেও হোক না হোক,আপনার স্বামী আপনার বশে আসবে"। আমি কবিরাজের কথামতো সেটাই করি। উনাকে ৮ হা*জার টা*কা দিয়ে চলে আসি বাড়িতে। আমার স্বামী সেদিনি আমার সাথে অনেক ভালো আচরণ করে। প্রায় ১ সাপ্তাহ তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ। আগের মতো আমাকে ভালোবাসে।আমার সাথে ঘুমায়।আমার বাচ্চাদের সাথে ভালো সময় কা*টায়।কিন্তু ১ সাপ্তাহ পর আবার আগের মতো। মানে মাত্র ১ সাপ্তাহ ভালো ছিলো।
কবিরাজের কাছে আমি আবার যাই। তিনি আমাকে বলেন," বান কা টা র পর আপনার স্বামীর উপর আবার বান মে রে ছে। আপনাকে কব*রস্থানে যেতে হবে। গিয়ে একটা তাবিজ নিজের হাতে নিবেন। নিজ দায়িত্বে সেটি যেকোনো একটা কবরে পুঁতে দিবেন। ইনশাআল্লাহ, আর কেও আপনার স্বামীকে ব*শ করতে পারবেনা"। সেইবারে কবিরাজ আমার থেকে ১৫ হা*জার টা*কা নেয়। এই টা*কাগুলা আমি ম্যানেজ করতাম কিভাবে জানেন? অমুকের থেকে ২ হা*জার ধার,তমুকের থেকে ৫ হাজা*র। এইভাবে করে করে টা*কাগুলা দিতাম।ভাবতাম আরাফ সুস্থ হয়ে গেলে অন্তত সবার দেনা দিয়ে দিবো। কবিরাজের কথামতো আমি রাত ৩ টায় পার্শ্ববর্তী একটা কবরস্থানে যাই। সেখানে তাবিজ পুঁতে চলেও আসি। এইবারেও আমার স্বামী ৭-৮ দিন সুস্থ ছিলো। ৭-৮ দিন পর আবার আগের মতো।
পর পর ৫-৬ বার আমি কবিরাজের কাছে যাই।কু*ফরি করি নিজের স্বামীর উপর।কদিন আরাফ সুস্থ থাকে।এরপর আবার আগের মতো। এর মধ্যে আমি আবার প্রেগ*ন্যান্ট হই।
২০২১ সালে আমার ৩য় বাচ্চা জন্ম হয়। আমি আমার বাবার বাড়ির সম্পত্তি বি*ক্রি করে সব টা*কা দেনা দিয়েছি। আর এই সব দেনা শুধুমাত্র কবিরাজকে দেওয়ার জন্য করেছিলাম। কিছু টা*কা হাতে ছিলো। ওটাও কবিরাজকে দিয়েছি। কবিরাজ একেকভাবে আমাকে একেক অজুহাত দেখায়। কাজ তিনি ঠিকি করেন।কিন্তু ৭-৮ দিন পর আবার সব গোলমাল হয়ে যায়। একেবারে শে*ষ সময়ে আমার হাতে মাত্র ৮০ হা*জার টা*কা ছিলো। তখন কবিরাজকে আমি ভালোভাবে ধরি। ঐ সময় কবিরাজ আমাকে যা বলেন,তা শুনার জন্য আমি একটুও প্রস্তুত ছিলাম না। কবিরাজ জানায়," তুমি আমার সাথে এক টানা ৫ রাত স হ বা স করো। এই ৫ রাতে আমি তোমাকে এমন কিছু কাজ করে দিবো। যা তোমাকে সারাজীবন আরাফের কাছে রাখবে। আরাফ সারাজীবন তোমার কথা শুনবে"। বড়সড় একটা ধা ক্কা খেলেও,কবিরাজের কথাটায় আমি না করতে পারিনি। আমি শুধু আমার সংসারটা বাচাতে চেয়েছি। নিরুপায় হয়ে,টানা ৫ রাত উনার কাছে যাই আমি। তিনি আমাকে যেভাবে পারলো,সেইভাবে ছিঁ *ড়ে খে *লো।
তাতেও লা*ভ হয়নি। আরাফ মাত্র ১ মাস ঠিক ছিলো। আমার ৩ টা বাচ্চা। টা*কাও সব শে*ষ। কবিরাজকে যখন এ নিয়ে বলতে গেলাম,তখন তিনি হু ম কি দেয়। উনার সাথে আমার গো*পন কিছু ভি*ডিও করে নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কথা বললে,তিনি আমার স্বামীকে ভি*ডিও দিয়ে দিবে। সেদিন আমি সু *ই সা ই ড করার জন্য বহুবার চে*ষ্টা করেছি।কিন্তু বার বার ৩ টা বাচ্চার মুখের দিকে চোখ যায় আমার।
ঘটনা এখানেই শে*ষ না রিয়াজ ভাই। আমি জানতাম না,আমার জন্য সামনে আরো বিশাল বি *প দ বসে ছিলো....
চলবে.....?
গল্পটি কেমন হয়েছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন পরবর্তী পর্ব পড়তে সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।