ইশার ঘটনা পরের পাট ২

   ইশার মাথার কাছে বসে পড়লাম।

কান্না গুলো দলা পাকিয়ে গলায় 

আটকে যাচ্ছে,চোখ দুটো জ্বলছে।


আর সামলাতে পারলাম না 


নিজেকে ,ইশা কে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলাম।


এই ইশা উঠ না বোন আমাকে 


একবার ভাইয়া বলে ডাক।


কিরে কথা বলবি না?


এইবার শুধু বল আমি তোর 


কাজল দিয়ে দিবো।তোকে তো


 বলাই হয়নি তোকে কাজল 


দিলে অনেক সুন্দর লাগে।


একবার ভাইয়া বলে ডাক দেখবি 


অনেক #কাজল কিনে দিবো।


আব্বু দেখো না ইশা কথা বলছে না।


ওকে বলে দাও আমিও কিন্তু রাগ


 করবে থাকবো কথা বলবো না।


বোন আমি জানি তুই আমার 


সাথে মজা করছিস।নে এখন উঠে 


পড় কেউ তোকে আর বকা দিবে না।


 আমি কথা দিলাম তোকে


 আর কষ্ট দিবো না।


আমাকে আব্বু জড়িয়ে ধরে 


কাঁদতে লাগলো। এতোক্ষণ


 চুপ থাকলেওআর সামলাতে


 পারলো না নিজেকে।সবাই আমার 


ছোট বোনকে নিয়ে চলে গেল।


ওকে কবর দেয়ার সাথে সাথে 


ভাইয়া ডাকটাও কবর হয়ে গেল।


 কেউ আর আমাকে আদুরে 


গলায় ভাইয়া বলবে না।


_______১ বছর পর ______


আজ ইশার মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো।


এই বাসাটা একটা মরা বাসা 


ছাড়া আর কিছু না। আগের মতো 


কথা নাই। আম্মু অনেক দিন 


ভুল করেই ইশা কে খেতে ডেকেছে


 কিন্তু যখন মনে হয় কান্না করতো।


সেই দিন আর কারো খাবার 


গলা দিয়ে নামতো না। শুধু একটা 


কথাই কানে বাজে"আমি যখন


 থাকবো না তখন বুঝবে কি


 হারিয়েছো তোমরা সবাই"।


আজ অনেক দিন পর ইশার রুমে 


আসলাম। আম্মু এই রুমে আসেনা 


তাই খুব ময়লা জমে আছে।


ইশার সব। কিছু আগের মতো থাকলেও


 শুধু ইশাই নাই।


 আমি একটা ঝাড়ু নিয়ে রুমটা


 পরিষ্কার করতে লাগলাম।


 হঠাৎ একটা ডায়েরী ব‌ই 


পত্রের মধ্যে পেলাম।


হাতে নিয়ে দেখি উপরে লেখা


"আমার না বলা কথা "।


খুব আগ্রহ নিয়ে খুলে পড়তে শুরু করলাম। 


এখানে প্রতিদিনের সব কিছু লেখা আছে।


আরো কিছু পাতা উল্টে দেখলাম


 একটা পেজে লেখা


  #কাজল পড়া শুরু করলাম। 


আমার অনেক পছন্দের জিনিস 


#কাজল ।


 আমার ফ্রেন্ডদের ভাইয়া রা তাদের


 অনেক কিছু গিফট করলেও


 আমার ভাই। আমাকে কিছু দিতো না


 তাই আমি ভাইয়ার টাকা নিয়ে


 একটা #কাজল কিনি আর 


সবাইকে বলি আমার ভাইয়া কিনে দিয়েছে।


আর পড়তে পারলাম না 


চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে। 


চোখ মুছে পরের পেজ উল্টা 


দেখলাম আমাকে নিয়ে লেখা।


ভাইয়া তুই যেই দিন আমার এই 


ডায়েরী পড়বি সেই দিন আমি


 হয়তো পৃথিবীতে থাকবো না।


জানিস ভাইয়া 


আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি রে। 


সারাদিন ঝগড়া করলেও 


তোকে ছাড়া আমার ভালো লাগতো না। 


ভাইয়া তোর খুব একটা দামি 


ফোনের শক ছিল তাই না। 


আমি তোকে তোর জন্মদিনে 


গিফট করতে চেয়েছিলাম তাই টাকা


 জমিয়ে রাখতাম।সবার কাছে 


থেকে টাকা নিয়ে মেকআপ কিনতাম 


না জমিয়ে রাখতাম। 


ভাইয়া তুই যে মেকআপ নিয়েছিস


 সেগুলোতে কিছুই নাই।


ভাইয়া আমার বেডের মাথার 


দিকে ডান পাশে একটু তুলে দেখিস।


 আমি ডায়েরী রেখে ওর কথা 


মতো তাই করলাম। দেখলাম 


এখানে অনেক টাকা।হাতে নিয়ে 


গুনে দেখি ২১ হাজার টাকা।


 মানে নিজের শক পূরণ না করে 


আমার কথা ভেবেছে আর 


আমি তার জন্য কিছু করিনি 


কতটা স্বার্থপর আমি।


চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে


 ইশা ফিরে আয় একবার আমার 


কাছে দেখবি আমি বেস্ট 


ভাই হয়ে দেখাবো।


ইশা আমি তোর মৃত্যুর জন্য দায়ী।


 আম্মু আমার কান্না শুনে আমার


 কাছে ছুটে আসে।


আম্মু আমি ইশাকে মেরে ফেলেছি।


 আমি ওকে মেরেছি নিজ হাতে মেরেছি।


 কেনো সেই দিন ওর জন্য আমি 


ঔষধ আনলাম না কেনো?আজ তাহলে 


ও আমার কাছে থাকতো। 


ইশা ফিরে আয় বোন আমার


 একটা বার ফিরে আয় আর 


কোনো দিন আমি ভুল করব না 


তোকে কথা দিলাম। একবার আমাকে


 ভাইয়া বলে ডাক।রাগ করে থাকিস না।

Post a Comment

Previous Post Next Post